বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

৩৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভোক্তা ব্যবসা বিক্রিতে সম্মত সিটিগ্রুপ

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসছে সিটিগ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি বাজারের কার্যক্রম বিক্রিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি। ৩৬৫ কোটি ডলারের চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ভিয়েতনামের ব্যবসা কিনছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক (ইউওবি) এর মাধ্যমে ১৩টি বাজার থেকে খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে সিটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইউওবির প্রস্তাবিত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে এটি। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি বাজারে সিঙ্গাপুরের ব্যাংকটির ভোক্তা দ্বিগুণ হবে। অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে ব্যাংকটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। দেশগুলোয় ইউওবি ডিবিএস গ্রুপ ওসিবিসির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

মুনাফা শেয়ারদরে সমকক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে প্রধান নির্বাহী জেন ফ্রেজারের কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাজার থেকে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসছে সিটিগ্রুপ। গত বছর শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেয়ার পর জেন ফ্রেজার এশিয়ার ১০টিসহ ১৩টি বাজারে ভোক্তা ব্যাংকিং গুটিয়ে সিটিগ্রুপের ব্যবসাকে সরল করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মাধ্যমে আরো লাভজনক প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় মনোযোগ বাড়াতে চাইছে সিটি ২০০৭-০৯ সালের আর্থিক সংকটের পর সম্পদ পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর জেন ফ্রেজারের অধীনে বড় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিটিগ্রুপ।

গতকাল এক বিবৃতিতে ব্যাংকটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার বাবেজ বলেন, পদক্ষেপ এশিয়া-প্যাসিফিকজুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কসহ আমাদের মূল ব্যবসায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি আমাদের কৌশলগত বিভাগে অতিরিক্ত বিনিয়োগে সহায়তা করবে। সবমিলিয়ে পদক্ষেপগুলো সিটিকে সর্বোত্তম রিটার্ন দেবে।

গত বছর সিটি ফিলিপাইনের ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করতে সম্মত হয়েছিল। ব্যাংকটি দক্ষিণ কোরিয়ায় ভোক্তা ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসাও বিক্রি করেছে। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ভারত, তাইওয়ান, চীন মেক্সিকো থেকেও খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ইউওবির ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রধান নির্বাহী উই চেওং বলেন, ইউওবি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনায় বিশ্বাস করে। আমরা শৃঙ্খলাবদ্ধ, নির্দিষ্ট স্থিরভাবে বেড়ে ওঠার সঠিক সুযোগ খুঁজে পেয়েছি। চার দেশে সিটির অনিরাপদ নিরাপদ ঋণ পোর্টফোলিও, সম্পদ ব্যবস্থাপনা খুচরা আমানত ব্যবস্থা অধিগ্রহণ করা হবে। অধিগ্রহণের আওতায় ২৪টি শাখা রয়েছে।

বাজারগুলোয় সিটির ভোক্তা ব্যবসায় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী রয়েছেন। অধিগ্রহণের পর তারা ইউওবির কর্মী হবেন। খবরের পর ইউওবির শেয়ারদর দশমিক শতাংশ বেড়ে চার বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্যাংকটি অতিরিক্ত মূলধন থেকে চুক্তির অর্থায়ন করছে।

ইউওবি জানিয়েছে, ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাজারগুলোয় সিটিগ্রুপের ভোক্তা ব্যবসায় ২৪ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। গত বছরের প্রথমার্ধে ব্যবসা থেকে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। অধিগ্রহণ ইউওবিকে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ ১০টি এবং মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি ভোক্তা ব্যাংকের তালিকায় নিয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন