বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

খবর

আকাশপথে টিকিটের উচ্চমূল্য

সিন্ডিকেটে আটাব সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উড়োজাহাজের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) বর্তমান কমিটির দু-একজন সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থায় টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানিয়ে সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আটাবের সাধারণ সদস্যরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আটাব সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আটাবের সাবেক সভাপতি এসএন মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতের জন্য এয়ার টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য বিরাজ করছে। গত বছর অক্টোবর থেকে সংকটময় অবস্থা শুরু হয়ে জানুয়ারি ২০২২- টিকিটের মূল্য সর্বকালের সেরা রেকর্ড অতিবাহিত করছে।

কোনো কোনো এয়ারলাইনসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে গুটিকয়েক এজেন্সি সুযোগে টিকিট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করে অসহায় বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রি বিপণন নীতিতে নাম ছাড়া টিকিট বুকিং বা তা ব্লক রাখার কারণে টিকিটের কৃত্রিম সংকট আরো বেড়েছে। এক্ষেত্রে রিজার্ভেশন সিস্টেমে ফ্লাইটে কোনো সিট খালি থাকলেও ব্লক করে রাখার কারণে সেসব টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে দেখানো হয়। এদিকে আবার আসন খালি রেখে ছেড়ে যায় এসব ফ্লাইট।

টিকিটের দাম কমাতে এক বছর ওপেন স্কাই (প্রতিটি এয়ারলাইনসকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেয়া) করার দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী। গত বছর অক্টোবর থেকে সংকট শুরু হয়ে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিটের মূল্য আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। রিয়াদ, জেদ্দা, মাসকাট দুবাই রুটে ইকোনমি ক্লাসের স্বাভাবিক সময়ে একমুখী ভাড়া ছিল ৩০-৩৫ হাজার টাকা। এখন সেটা লাখ থেকে লাখ ৩০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া এত বেশি টাকা দিয়েও এখন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে দেশী বিদেশী বিমান সংস্থাগুলো ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর ফলে প্রবাসী, শ্রমজীবী, বিদেশগামী যাত্রী, ওমরাহ যাত্রী, রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটরসহ সবাই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাশের দেশে এসব রুটে টিকিটের মূল্য ৪০ হাজার টাকার কম। এছাড়া একই গন্তব্যের ফিরতি পথের দূরত্ব একই হলেও টিকিটের দাম ২০-২৫ হাজার টাকা মাত্র।

মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আটাবের সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ, সাবেক অর্থ সম্পাদক আবদুল হামিদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মনসুর আলম পারভেজ আটাবের সাধারণ সদস্য আনোয়ার হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন