বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

টকিজ

শিল্পী সমিতির নির্বাচন

কোন প্যানেলে কী চমক?

ফিচার প্রতিবেদক

পরীমনি, ইলিয়াস কাঞ্চন, মৌসুমী, মিশা সওদাগর

২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুই প্যানেল ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ মিশা সওদাগর-জায়েদ খান। পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে কার্যনির্বাহী পদে লড়ছেন নাসরিন। এছাড়া খলনায়ক ডনও নির্বাচন করবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। বুধবার ঘোষিত দুই প্যানেলেই ব্যান্ড বাজিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। শুরু থেকে প্যানেল দুটি একের পর এক চমক দিয়ে আসছিল। মিশা-জায়েদ প্যানেলের একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী মৌসুমীকে দলে টেনে চমক দেখায় প্যানেল। তবে তার আগে ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি পদে এবং একই প্যানেল থেকে চিত্রনায়িকা নিপুণ আকতার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বড় চমকটা দেখান।

পরীমনির নির্বাচনে দাঁড়ানোটা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক বলা যায়। এমনিতেই নানা কারণে আলোচিত পরীমনি। বিভিন্ন সময়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোয় সমিতির সদস্যদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি। ফলে পরীমনিকে দলে ভিড়িয়ে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল আবারো চমক দেখায়।

জানা যায়, জায়েদ খানও চেষ্টা করেছিলেন চমক দেয়ার। নায়ক অনন্ত জলিলকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হননি।

কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী?

দুই প্যানেলের একদিকে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন মিশা সওদাগর অন্যদিকে দাঁড়িয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। পর্দার নায়কের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্দার ভিলেন। কাঞ্চন-নিপুণের প্যানেলে এবার সহসভাপতি পদে নির্বাচন করছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ডিএ তায়েব। অন্যদিকে মিশা-জায়েদ প্যানেলে সহসভাপতি পদে নির্বাচনে লড়ছেন ডিপজল রুবেল। সহসাধারণ সম্পাদক পদে সাইমন সাদিকের প্রতিদ্বন্দ্বী সুব্রত। সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনূর লড়বেন আলেকজান্ডার বোর সঙ্গে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নিরব হোসেনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন জয় চৌধুরী। দপ্তর প্রচার সম্পাদক হিসেবে আরমানের সঙ্গে লড়বেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ক্রীড়া সম্পাদক পদে ইমনের প্রতিপক্ষ জাকির হোসেন। কোষাধ্যক্ষ পদে আজাদ খান দাঁড়িয়েছেন ফরহাদ হোসেনের বিপক্ষে। এছাড়া কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করবেন অমিত হাসান, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান, নানা শাহ, আফজাল শরীফ, সাংকো পাঞ্জা, জেসমীন, কেয়া, পরীমনি, গাঙ্গুয়া সীমান্ত। মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচন করায় তাদের প্রতিপক্ষ রোজিনা, অঞ্জনা, সুচরিতা, অরুণা বিশ্বাস, মৌসুমী, আলীরাজ, আসিফ ইকবাল, বাপ্পারাজ, নাদের খান, চুন্নু, হাসান জাহাঙ্গীর।

মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিপক্ষে কোন প্যানেল দাঁড়াবে সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বেশ কয়েক মাস ধরেই। হঠাৎ ঘোষণা আসে নিপুণ নির্বাচন করবেন। সামনে থাকবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এর আগে ১৯৮৯-৯০ সালে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চলচ্চিত্রের ক্লিন ইমেজ এবং সামাজিক সংগঠক হিসেবে চলচ্চিত্রের বাইরেও তিনি সুপরিচিত। তাই মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিরোধীরা নায়ককে পেয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দীর্ঘদিন যারা সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই নেতৃত্বের মধ্যে অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে রেষারেষি হচ্ছে, মনোমালিন্য হচ্ছে। মনোমালিন্য যদি চলচ্চিত্রে থাকে তাহলে তো উন্নয়ন হবে না। আমি বিষয়গুলো ভেবে নির্বাচনে এসেছি। শিল্পীদের কেন মানুষ দুস্থ বলবে? আমরা অনেক সিনেমা বানানোর উদ্যোগ নেব। শিল্পীদের কাজের ব্যবস্থা করব।

প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক নিপুণ বলেন, চলচ্চিত্র থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু আজকে চলচ্চিত্র যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, আমার মনে হচ্ছে, আমরা একটা ক্রান্তিলগ্ন পার করছি। কাঞ্চন ভাইকে অনেক ধন্যবাদ, তিনি সময় এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে গত নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন মৌসুমী-তায়েব প্যানেল। সেই মৌসুমী এবার নির্বাচন করছেন মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে। গতবারের প্রতিপক্ষের প্যানেল থেকে বছর নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে মৌসুমী বলেন, গত বছর থেকেই দেখে আসছি মিশা-জায়েদ শিল্পীদের জন্য ভালো কাজ করছে। বিগত দিনে তাদের কাজগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন, শিল্পী সমিতির হয়ে তারা সব কাজই ভালো করেছে। আমি তাদের সেই ভালো ভালো কাজের সমর্থক হিসেবেই তাদের প্যানেলের হয়ে দাঁড়িয়েছি।

নিজ প্যানেলের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মৌসুমী বলেন, মিশা-জায়েদ তো ভালো কাজ করছেই। আশা করি আরো ভালো কাজ করবে। যেহেতু এখন সিনেমা কম নির্মাণ হচ্ছে তাই আমাদের কাজও কম। তাই কাজ অন্যান্য সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের সমিতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি শিল্পীদের পক্ষে কথা বলবে। তারা যে বড় পরিকল্পনা করছে আশা করি তারা সব বাস্তবায়ন করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২৮ জানুয়ারি হবে সমিতির ২০২২-২৩ দ্বিবার্ষিক মেয়াদের নির্বাচন। নির্বাচনে প্রধান কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অভিনেতা পীরজাদা হারুন। তার সঙ্গে থাকবেন বিএইচ নিশান বজলুর রাশীদ চৌধুরী। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় দেখা যাবে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে। বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে মোহাম্মদ হোসেন জেমী মোহাম্মদ হোসেনকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন