বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

ফিচার

নিজের বাড়িতেই দুর্মূল্য পেইন্টিং আবিষ্কার

বণিক বার্তা অনলাইন

স্যার অ্যান্থনি ফন ডিক

ক্রিস্টোফার রাইট একজন প্রথম সারির ব্রিটিশ শিল্প ইতিহাসবিদ। গত ৫ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পেইন্টিংয়ের ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি পুরোনো মাস্টারপিস খুঁজে বের করেছেন। এবার নিজের বাড়ির দেয়ালেই আবিষ্কার করলেন দুর্মূল্য একটি পেইন্টিং। ১৯৭০ সালে স্যার অ্যান্থনি ফন ডিকের আঁঁকা পেইন্টিংটি মাত্র ৬৫ পাউন্ড দিয়ে কিনেছিলেন তিনি।

রাইট বলেন, ওয়েস্ট লন্ডনের এক দালালের কাছ থেকে নকল ভেবে পেইন্টিংটি আমি কিনি। একজন আর্ট হিস্ট্রিয়ান হিসেবে পেইন্টিংটি সংগ্রহ করি আমি। অদ্ভুত ব্যাপার, আমি এটার দিকে কখনো ঠিক করে নজর দিইনি। কথায় আছে, মুচির ছেলে জুতার দেখা পায় না। আর্ট হিস্ট্রিয়ানের সংগ্রহের দিকেও তাই নজর কম পড়ে।

রাইটের ধারণা পেইন্টিংটির দাম কম করে হলেও ৪০ হাজার পাউন্ড। তবে ফন ডিকের কিছু পেইন্টিং মিলিয়ন পাউন্ডেও বিক্রি হয়েছে।

স্পেনের রাজকন্যা ও স্প্যানিশ নেদারল্যান্ডসের শাসক ইসাবেলা ক্লারা ইউজিনিয়ার এ চিত্রকর্মটি বছরের পর বছর ধরে ক্রিস্টোফার রাইটের বসার ঘরে ঝুলছিল। এখন এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে এটিকে প্রকাশ্যে আনতে চান রাইট। চিত্রকর্মটিকে তিনি বার্নসলির ক্যানন হল মিউজিয়ামে দীর্ঘমেয়াদী ঋণে রাখবেন বলে জানিয়েছেন। সপ্তদশ শতাব্দীর ডাচ ও ফ্লেমিশ পেইন্টিংয়ের ভালো সংগ্রহের জন্য জাদুঘরটির সুনাম আছে।

রাজকন্যার পোর্ট্রেটটি প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কলিস হ্যারিসনের। তিনি অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের ইউরোপিয়ান আর্ট শাখার জ্যেষ্ঠ কিউরেটর। তিনি পেইন্টিংটিকে ফন ডিকের অরিজিনাল কপি বলে ধারণা করেন। এর পরই চিত্রকর্মটিকে ভালো করে লক্ষ্য করেন রাইট।

রাইট বলেন, যখন কোনোকিছু আপনার হয়ে যায়, তখন সেটার দিকে আপনি কোনো নজর দেন না। হাতের কাছেই ছিল বলে কখনও খেয়াল করিনি, করেছেন কলিন।

কেনার সময় রাইট ভেবেছিলেন এটা হয়তো ফন ডিকের আঁঁকা রাজকন্যার পোর্ট্রেটের কপিগুলোর বিভিন্ন ফরফ্যাটের একটি। তারটি ছিল ক্যানভাসের ওপর তেলরঙে আঁঁকা হাফ-লেংথ ভার্সন।

প্রত্যেকটি ফরম্যাটেই রাজকন্যাকে সন্ন্যাসীনির বেশে দেখা গেছে, এতে স্বামীর মৃত্যুর পর তার শোকসন্তপ্ত এবং ধার্মিকভাব ফুটে উঠেছে। তার স্বামী অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক সপ্তম অ্যালবার্ট ১৬২১ সালে মারা যান। ১৬৩৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নেদারল্যান্ডস শাসন করেছেন।

রাজকন্যাকে একজন ধর্মপ্রাণ, ভালো শাসক এবং শিল্পের একজন ভালো পৃষ্টপোষক হিসেবে স্বীকার করলেও, পোর্ট্রেটটিকে খুব একটা পছন্দ করতেন না রাইট।

তবে হ্যারিসনের কথা শুনে তিনি এটাকে পরীক্ষা এবং পরিষ্কার করানোর জন্য সেন্ট্রাল লন্ডনের কোর্টঅল্ড ইনস্টিটিউট অব আর্টে নিয়ে যান। রাইট বলেন, এটা একটু ময়লা ও হলদেটে হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যথেষ্ট ভালো অবস্থাতেই ছিল। এখন পুরো জিনিসটাকে চমত্কার লাগছে।

ধারণা করা হচ্ছে পেইন্টিংটি ১৬২৮ থেকে ১৬৩২ সালের মধ্যে করা হয়েছে। এর মধ্যে ফন ডিক ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস ও রাজকন্যা ইসাবেলার রাজশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৩২ সালে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে এলে রাজা প্রথম চার্লস তাকে রাজসভার প্রধান শিল্পী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।

রাইটের পূর্ববর্তী আবিষ্কারগুলো মধ্যে ইয়র্কশায়ারের হালে অবস্থিত ফেরেনস আর্ট গ্যালারিতে পাওয়া জর্জ স্টাবের আঁঁকা পোর্ট্রেট অন্যতম। এছাড়া রেমব্র্যান্টের মতো সপ্তদশ শতাব্দীর চিত্রকরদের নিয়ে গবেষণামূলক বই প্রকাশ করেছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন