বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

দেশের খবর

জাবির ফার্মেসি বিভাগে সেশনজট

ছয় বছরেও তৃতীয় বর্ষ পার হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, জাবি

ভর্তির পর ছয় বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তৃতীয় বর্ষ পার হতে পারেননি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফার্মেসি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে এখনো ফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে হতাশা অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন ব্যাচটির শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফার্মেসি বিভাগের ৪৫ ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয় দুই বছর পর ২০২০ সালে। পরীক্ষাটি ২০২০ সালের জানুয়ারি শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে শেষ হয়। এরপর ২১ মাস পার হয়ে গেলেও ফল প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা চরম অস্থিরতায় ভুগছেন। শিক্ষার্থীরা আদৌ জানেন না তারা পরীক্ষায় পাস করেছেন কিনা। এদিকে তৃতীয় বর্ষের ফল প্রকাশের আগেই চতুর্থ বর্ষের তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেয়া হলেও ল্যাব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের বিষয়ে বিভাগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফলে চতুর্থ বর্ষের ফলও কবে প্রকাশিত হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪৫ ব্যাচের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স চলছে। তাদের অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় তারা বিসিএসসহ সব ধরনের চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। আর আমরা এখনো তৃতীয় বর্ষই পার হতে পারিনি। আমাদের এখন থাকার কথা ছিল মাস্টার্সে। কিন্তু বিভাগের অবহেলায় আমরা দীর্ঘ সেশনজটের কবলে পড়েছি। আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভাগে কিছু সেশন জট তৈরি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সেশনজট কমিয়ে আনতে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনলাইনে নেয়ার অনুমতি থাকলেও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি ছিল না। ফলে আমরা ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো নিতে পারিনি। এখন আমরা আগে তত্ত্বীয় পরীক্ষা হওয়া সাপেক্ষে বিভিন্ন ব্যাচের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেব। আর চতুর্থ বর্ষের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে।

তৃতীয় বর্ষে কেউ অকৃতকার্য হলে কি হবে জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি বণিক বার্তাকে বলেন, দুই বিষয়ে কেউ ফেল করলে সে একই ব্যাচের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। ফেল করা দুই বিষয়ে তাকে নিচের কোনো ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হবে। এটা ইমপ্রুভমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ইয়ার ড্রপ হবে না। কোনো কারণে নিচের ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে না পারলে বিশেষ পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিনিয়র ব্যাচের ব্যবহারিক পরীক্ষা না নিয়ে বিভাগ থেকে জুনিয়রদের ব্যবহারিক পরীক্ষা আগে নেয়া হচ্ছে। সিনিয়র ব্যাচগুলো এরই মধ্যে সেশন জটের কবলে পড়েছে। জুনিয়রদের সামনে সময় আছে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার। কিন্তু বিভাগ সিনিয়রদের বিষয়ে মনোযোগী না হয়ে জুনিয়রদের ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু করেছে।

তৃতীয় বর্ষের ফল কেন প্রকাশ করা হয়নি জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, তৃতীয় বর্ষের একটি ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল হাতে না পাওয়ায় ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি খুব দ্রুত ফল জমা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ফল জমা দিলেই যত দ্রুত সম্ভব আমরা তৃতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ করব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন