বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

দেশের খবর

কমিউনিটি ট্যুরিজমের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না

আফরোজ আহমদ, মৌলভীবাজার

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কমিউনিটি ট্যুরিজমের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও উদ্যোগ পরিকল্পনার অভাবে মৌলভীবাজারের সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বছর তিনেক আগে কমলগঞ্জের মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর ১০টি পরিবারকে যুক্ত করে সিলেট বিভাগে প্রথম কমিউনিটি ট্যুরিজম যাত্রা শুরু করে মৌলভীবাজারে। শুরুতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেলেও পুঁজি বিনিয়োগ না বাড়ায় ১০ পরিবারের পাইলট প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ রয়েছে উদ্যোগ। উদ্যোক্তারা বলছেন, আগ্রহ থাকলেও পুঁজিস্বল্পতার কারণে তৈরি হচ্ছে না নতুন উদ্যোক্তা। আর খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি চালাতে হবে প্রচার-প্রচারণা। তাছাড়া স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে পুঁজি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাতে যুক্ত করতে পারলে  অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে খাত।

পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে গারো, খাসি, ত্রিপুরা, মণিপুরি, সাঁওতাল, মুণ্ডাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। উদ্যোক্তারা জানান, নিজস্ব আচার সংস্কৃতির ধারক এসব ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি আগ্রহ রয়েছে পর্যটকদের। তাদের বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন অনেকে। নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্য সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলেও তাদের নিজস্ব পরিমণ্ডলে থাকার সুযোগ কম। সে কারণে প্রাকৃতিক পর্যটনের সঙ্গে কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

২০১৮ সিলেট বিভাগের প্রথম কমিউনিটি ট্যুরিজম যাত্রা শুরু করে মৌলভীবাজারে। প্রাথমিকভাবে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল মাঝেরগাঁওয়ের ১০টি মণিপুরি পরিবারকে নিয়ে শুরু করা হয় পাইলট প্রকল্প। পর্যটকের নিরাপত্তা, খাবার, বাসস্থানসহ সার্বিক বিষয়ে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এসব পরিবারের কয়েকজনকে দেয়া হয় প্রশিক্ষণও। প্রকল্প সফল হলে অন্যান্য সম্প্রদায়কে কমিউনিটি ট্যুরিজমে সম্পৃক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সে প্রকল্পের মধ্যেই আটকে আছে সম্ভাবনাময় খাত।

মণিপুরি কমিউনিটি ট্যুরিজমের পরিচালক নিরঞ্জন সিংহ রাজু জানান, প্রকল্পটি চালুর দুই বছরের মাথায় দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ফলে পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি বন্ধ হয় প্রকল্পটি। বর্তমানে আবার চালু করা হয়েছে। মণিপুরীদের ঋতুভিত্তিক আচার, চৈরাউবা, রথযাত্রা, কাঙ এবং বৃহত্তম উৎসব রাসপূর্ণিমাসহ অন্যান্য উৎসবের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ থাকায় সারা বছরই পর্যটন সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। এখানে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী অতিথিরাও নিয়মিত আসেন। মণিপুরি খাবার আচার পছন্দ করেন তারা।

তিনি আরো জানান, ১০টি বাড়িতে মাত্র ২০ জন অতিথি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়িতে অতিথিদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করার জন্য আলাদা ঘর আসবাব দরকার। সেজন্য পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। ইচ্ছে থাকলেও সবার সেই সংগতি নেই। এজন্য দরকার আর্থিক সহায়তা।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, কমিউনিটি বেইসড ট্যুরিজমকে গুরুত্ব দেয়া হলে প্রাকৃতিক পর্যটনের ওপর চাপ কম পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা মৌলভীবাজারের সমন্বয়ক সালেহ সোহেল বলেন, জেলায় দিন দিন পর্যটকের চাপ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হোটেল রিসোর্ট। কমিউনিটি বেইসড ট্যুরিজম সমৃদ্ধ হলে পর্যটন খাতের সঙ্গে পিছিয়ে থাকা জনজাতির মানুষও উপকৃত হবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, কমিউনিটি ট্যুরিজম এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন সচেষ্ট। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা আসবে তাদের সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন