বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

শেষ পাতা

ঢাকা টেস্ট

নির্বিষ বোলিংয়ের দিনে লড়লেন শুধু তাইজুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন দ্বিতীয় সেশনে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ২৫ মিনিট। এরপর আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় সেশনের খেলা মাঠেই গড়ায়নি। ফলে প্রথম দিনের খেলা শেষ হয় মাত্র ৫৭ ওভারে। যেটুকু লড়াই হয়েছে তাতে এগিয়ে পাকিস্তান। দুই ওপেনারকে হারানোর পর বাবর আজম আজহার আলীর দৃঢ়তায় উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে অতিথিরা।

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট শিকারি তাইজুল ইসলাম মিরপুরেও দলকে প্রথম ব্রুৎকেথ্রু এনে দেন। দুই ওপেনার বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন, তখনই আঘাত হানেন বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। তিনি সরাসরি বোল্ড করেন আব্দুল্লাহ শফিককে (৫৯/) দলীয় ৭০ রানে তার দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন চট্টগ্রাম টেস্টের ম্যাচসেরা খেলোয়াড় আবিদ আলী। তিনিও তাইজুলের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন।

বৃষ্টি আলোকস্বল্পতায় খর্ব হয়ে আসা দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ দুটি উইকেট নিতে পারলেও দ্বিতীয় সেশনে প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। বাবর আজম (৬০*) আজহার আলী (৩৬*) তৃতীয় উইকেটে ৩২ ওভার খেলে ৯১ রান যোগ করে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। বাবর আজহারকে কোনো পরীক্ষায়ও ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিং নেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যাট করতে নেমে আবিদ শফিক চট্টগ্রাম টেস্টের মতোই ভালো সূচনা করেন। কোনো বিপদ ছাড়াই দলের সংগ্রহ ৫০ পার করেন তারা। ১৯তম ওভারে তাইজুলের বল শফিকের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। তিনি বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ২৫ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৯ রানের জুটিও। ঘূর্ণি বলে দলীয় ৭০ রানে আবিদ আলীকেও বোল্ড করেন তাইজুল। ৩৯ রানে ব্যাট করতে থাকা ওপেনার অলস ভঙ্গিতে কাট করতে গিয়েছিলেন। কানায় লেগে বল আঘাত হানে স্টাম্পে।

স্বাগতিক বাংলাদেশ দলে এসেছে তিনটি পরিবর্তন। ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। টেস্টে বাংলাদেশের ৯৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে মাহমুদুল হাসান জয়ের। এছাড়া আড়াই বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে আবারো মাঠে নেমেছেন পেস বোলার খালেদ আহমেদ।

সব মিলিয়ে পাঁচজন স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে মিরপুর টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। এর পরও দিনটি বাংলাদেশের হয়নি। বোলিং নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, তাইজুল ভাই ভালো সূচনা করেছেন। গত টেস্টেও তিনি দুর্দান্ত বোলিং করেন। আজও (গতকাল) দুটি উইকেট তিনিই নিলেন। এক প্রান্তে তিনি ভালো বোলিং করে গেছেন। টেস্ট বোলিংয়ে পার্টনারশিপটা গুরুত্বপূর্ণ। দুই পেসার যদি উভয় প্রান্ত থেকে আরো চাপ তৈরি করতে পারতেন, তবে প্রথম ঘণ্টায় আমরা আরো দু-একটি উইকেট পেতাম। সাকিব ভাই তাইজুল ভাই উভয় প্রান্ত থেকে শক্ত বোলিং করেছেন, যার ফলেই দুটি উইকেট এসেছে। এটা সব সময়ই আমাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। আমিসহ অন্যরা দ্বিতীয় সেশনে এভাবে চাপ তৈরি করতে পারিনি, ফলে তারা আধিপত্য করেছে।

প্রথম দিন বাংলাদেশের আধিপত্য করতে না পারার কারণ হিসেবে বিশেষভাবে পেসারদের ব্যর্থতাকে দেখছেন মিরাজ। তার কথায়, পেসাররা আরো কিছু উইকেট নিতে পারলে আমাদের জন্য পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো। সাকিব ভাই তাইজুল ভাই যেমনটি করেছেন, ঠিক সেভাবে বল হাতে সবাইকে অবদান রাখতে হবে। টেস্টে আগের দিকে উইকেট নেয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা আমরা করতে পারিনি।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগেই পূর্বাভাস ছিল বৃষ্টির। প্রথম দিন শেষ সেশন পণ্ড হয় বৃষ্টি আলোকস্বল্পতায়। আজ দ্বিতীয় দিন খেলা শুরু হবে আধা ঘণ্টা আগে, সকাল সাড়ে ৯টায়। সব ঠিক থাকলে আজ ৯৮ ওভারের খেলা হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : পাকিস্তান প্রথম ইনিংস প্রথম দিন শেষে

১৬১/ (বাবর ৬০, আজহার

৩৬*; আবিদ ৩৯, শফিক

২৫; তাইজুল /৪৯)

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন