বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

প্রথম পাতা

করোনার বিস্তার বাড়লে বন্ধ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান —প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শিশু একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও ধানমন্ডিতে জয়িতা টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ছবি: পিএমও

দেশে করোনার বিস্তার বাড়লে আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি সময়কে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, নভেল করোনাভাইরাস কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমরা টিকা দেয়া শুরু করেছি, এখন শিক্ষার্থীদেরও দিচ্ছি। নতুন আরেকটা ঢেউ আসছে। কাজেই এটা মাথায় রাখতে হবে যদি করোনা বিস্তার লাভ করে, তাহলে যেকোনো সময় কিন্তু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হয়ে যাবে।

গতকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১২ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক জয়িতা টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে মহিলা শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদের আমি আরেকটা কথা বলব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার কারণে বন্ধ ছিল। এখন সব স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।

সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে লেখাপড়ায় মন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশটাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুরএটা ছাত্রদের কাজ না। এটা কেউ করবেন না দয়া করে। যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। লেখাপড়া করেন।

আন্দোলনের নামে যারা নাশকতায় জড়াচ্ছে তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, গাড়ি ভাংচুর, আগুন দেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে, তাদেরও শাস্তি দেয়া হবে। আর গাড়িতে আগুন দেয়ার পর সেই গাড়িতে যদি কেউ মারা যায় বা কেউ আগুনে পোড়ে, তাহলে তার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা গাড়িতে দুর্ঘটনায় একটা মানুষ মারা গেল বলে আরো ১৫টা গাড়ি ভাঙা সেখানে আগুন দেয়া এবং তার ফলে গাড়িতে যাত্রী, ড্রাইভার, তারা যারা আহত হয় অথবা নিহত হয় সেই দায়িত্বটা কারা নেবে?

সড়ক দুর্ঘটনার পর মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে লাঠিসোঁটা হাতে কিছু মানুষের গাড়ি ভাংচুর গাড়িতে আগুন দেয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই যে আগুন দেয়া শুরু হলো, ওই গাড়িতে কি যাত্রী নেই? শিশু নেই? ওখানে কি ছাত্র-ছাত্রী নেই? ওই আগুনে যারা পুড়বে, আহত হবে বা মারাও যেতে পারে, তার দায়িত্বটা কে নেবে? খুব স্বাভাবিকভাবে যারা গাড়ি ভাংচুর করছে তাদের ওপর বর্তায়। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সেই ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

হতাহতের দায়ও ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগকারীদের নিতে হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি আহত বা নিহত হয়, সেটার দায়িত্ব যারা ভাংচুর করছে তাদের। সে কারণে আমি বলব, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

সড়কে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় প্রাণহানির ঘটনায় কারা দায়ী তা খুঁজে বের করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তখন ময়লার গাড়ি নিয়ে যে যাচ্ছিল, সেই গাড়ির সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে যাবে কেন? সেটাও বিবেচনা করতে হবে। আর গাড়ি যে চালাচ্ছিল, তার এই গাড়ি চালানোর মতো দক্ষতা আছে কিনা সেটাও বিবেচনা করতে হবে। গাড়িচালকদের সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে। উভয় দিকেই দায়িত্বশীলতা কার কতটুকু আছে সেটা দেখতে হবে।

বেসরকারি বাসচালকদের জন্য প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তাদের কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় দেয়ার কথা বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে চলার সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে। রাস্তার যেকোনো জায়গা থেকে, যেখান থেকে সেখান থেকে রাস্তা পার হতে গেলে অ্যাকসিডেন্ট হবেই। একটা চলমান গাড়ি চট করে ব্রেক করতে পারে না। সেটার ব্রেকটা কষতে সময় লাগে। প্রতিটি রাস্তায় পারাপার করার জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে। সেখান থেকেই রাস্তা পার হওয়া সমীচীন।

বাংলাদেশের অগ্রগতি অতীতের সঙ্গে দেশের মানুষের জীবনযাপনের পার্থক্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন যা দেখছে, আগে তা ছিল না, সেটাও শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কাজেই তাদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশটাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

একই দিন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ের ৫০ বছরলাল সবুজের মহোৎসব শীর্ষক অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছি এবং দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ আমরা পাব। আমি ব্যবসায়ীদেরও বলব, আপনারাও সেভাবে প্রস্তুতি নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছি। দেশকে আরো বেশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ আমরা পাব। হয়তো উন্নয়নশীল দেশ হতে না পারলে আমরা পেতাম না। সেখানে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত। আওয়ামী লীগ সরকার যতক্ষণ ক্ষমতায় রয়েছে সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা পিছিয়ে থাকিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন