বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

প্রথম পাতা

ওমিক্রনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান টিকার কার্যকারিতায় শঙ্কা

মডার্নার হুঁশিয়ারিতে বিশ্ববাজারে ধস

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব। ধরনটির কারণে অতিমারী কতটা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে সেটা নিয়ে শঙ্কিত সবাই। ডেল্টার চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হলে সেটি মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ধরনটির বিরুদ্ধে বিদ্যমান টিকাগুলো কতটা কার্যকর হবে, সেটি নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা। তবে এখন পর্যন্ত আশাজাগানিয়া কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গতকাল টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার সিইও ওমিক্রনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান টিকার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ধরনটির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে নতুন টিকার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার এমন মন্তব্যে এরই মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিশ্ববাজারে। বড় পতন হয়েছে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারেও।

মার্কিন টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিফেন ব্যান্সেল ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে করোনার নতুন ধরনের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ওই সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, করোনার বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই। এটির বিরুদ্ধে বিদ্যমান টিকা একই রকমের কার্যকর হবে, এটাও ঠিক না। আমাদের সঙ্গে আগে থেকে ডেল্টা ছিল। নতুন করে ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে টিকার কাঁচামালের সরবরাহ কমবে। তবে এর পরিমাণ জানতে আমাদের আরো তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি যতগুলো বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ এটার পরিণতি ভালো বলেননি। সময় তিনি ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে নতুন টিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। বিদ্যমান টিকায় ধরনটির প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা থাকায় অতিমারী দীর্ঘ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত টিকার মধ্যে মডার্নার টিকাকেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিভিন্ন গবেষণায় সেটিও প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু ওমিক্রনের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর এমন মন্তব্যে উদ্বিগ্ন সব মহল।

মডার্না প্রধানের এমন মন্তব্যের জেরে গতকাল বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের সূচক বড় পতন হয়। ইউরোপের প্রধান পুঁজিবাজারে গতকাল প্রাথমিক লেনদেনে দশমিক শতাংশ পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের প্রধান সূচকগুলো লেনদেনের শুরুতেই পতনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে ডাও জোনস দশমিক শতাংশ, নাসডাক দশমিক শতাংশ এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকে দশমিক শতাংশ পতন হয়। এশিয়ার পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ সূচকই ছিল নিম্নমুখী। এর মধ্যে হ্যাংসেং ৩৭৭ পয়েন্ট, নিক্কেই-২২৫ সূচক ৪৬২ সেনসেক্স ১৯৫ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ করে। পুঁজিবাজারের পাশাপাশি ওমিক্রন-সৃষ্ট অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পণ্যবাজারেও। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মূল্য এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমেছে।

তবে চলমান টিকা কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদী ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সির (ইএমএ) প্রধান পরিচালক ইমার কুক। স্টিফেন ব্যান্সেলের মন্তব্যের বিপরীতে ইমার কুক ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন, যদি নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন আরো বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে, তবুও চলমান টিকা কার্যক্রম মানুষকে সুরক্ষা দেবে।

ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) প্রধান আন্দ্রেয়া আমোন বলেছেন, ১০টি ইউরোপীয় দেশে ৪২ জনের নতুন ধরন সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ছয়জনের ব্যাপারে বলা হচ্ছে সম্ভাব্য আক্রান্ত। তিনি বলেছেন, ওমিক্রনের লক্ষণ খুব সামান্য। আবার কিছু ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এটার সংক্রমণ কম বয়সীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড বলছে, ওমিক্রনের মারাত্মক সংক্রমণে বর্তমান টিকা কার্যকর নয়, এটি এখনো প্রমাণিত নয়। তবে দ্রুত টিকার আপডেট ভার্সন তৈরিতে তারা প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথভাবে তা বানাতে হবে।

ওমিক্রনের ক্ষেত্রে বর্তমানের টিকার কার্যকারিতা কতটুকু সে সম্পর্কে জানতে কয়দিন লাগবে অথবা ব্যাপারে মন্তব্য চেয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন টিকা তৈরি প্রতিষ্ঠান মডার্না। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ওমিক্রনকে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত ২৫ নভেম্বর নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। পরে যার নাম দেয়া হয় ওমিক্রন। ওই ঘোষণার পর শুক্রবার বৈশ্বিক পুঁজিবাজার প্রায় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হারায়।

ডব্লিউএইচও বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওমিক্রনের কারণে গুরুতর অসুস্থতা অথবা টিকাদানের ফলে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধক্ষমতার বিপরীতে ওমিক্রন কতটা কার্যকর তা জানতে সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় লাগবে। অন্যদিকে ইএমএর প্রধান পরিচালক ইমার কুক জানিয়েছেন, ল্যাব টেস্টের ফল জানতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। যদি প্রচলিত কভিড-১৯ টিকা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবু নতুন টিকার অনুমোদন হয়ে আসতে তিন-চার মাস সময় লাগবে। ব্যাপারে ফিলাডেলফিয়ার পেন ইনস্টিটিউট ফর ইমিউনোলজির পরিচালক জন হ্যারি বর্তমানের টিকাগুলোর ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদী। তিনি বলেছেন, বাজারে থাকা বিদ্যমান টিকা আপনাকে এখনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।

মডার্না, ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক জনসন অ্যান্ড জনসন টিকা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে যদি বর্তমানের টিকাগুলো ওমিক্রনের ক্ষেত্রে কাজ না করে তা নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে মডার্না উচ্চমাত্রার বুস্টার ডোজের পরীক্ষাও চালিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন