বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

শেষ পাতা

দখলদারদের দৌরাত্ম্য

প্রকল্প শেষের আগেই নষ্ট হচ্ছে শতবছর মেয়াদি সীমানা পিলার

আল ফাতাহ মামুন

সীমানা পিলার দিলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না নদী দখল ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোর তীরবর্তী ভূমি বেদখল হওয়া ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বারবার উচ্ছেদ দখলের চক্র থেকে বের হতে নদীর তীরে ১০০ বছর মেয়াদি সীমানা পিলার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই দখলদারদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব পিলার।

হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে শত বছরের গ্যারান্টি দেয়া সীমানা পিলার নির্মাণেই ব্যয় হবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, প্রতিটি সীমানা খুঁটি কমপক্ষে ৩০-৩৫ ফুট মাটির নিচে আরসিসি ঢালাই করে বানানো হচ্ছে। মাটির ওপরে দৃশ্যমান হবে খুঁটির বাকি ১৬ ফুট। নদীর দুই তীরে প্রায় ২২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হাজার ৫৬২টি সীমানা খুঁটি স্থাপনের কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি খুঁটির দাম পড়ছে প্রায় লাখ টাকা করে।

সম্প্রতি তুরাগ নদের আমিনবাজার ব্রিজ থেকে ডানে বামের অংশে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি খুঁটি ঘেঁষে অবৈধভাবে ট্রাক পার্ক করা রয়েছে। একই দৃশ্য বালু নদের অংশেও দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সীমানা খুঁটিগুলো বেশ মজবুত হওয়ায় একেবারে অপসারণ করা যায়নি। তবে ধীরে ধীরে দখলদাররা এসব খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করেছে। 

বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, খুঁটিগুলো আসলেই খুব মজবুত করে বানানো হয়েছে। এগুলো সহজে নষ্ট করা যাবে না। তবে দখলদাররা কোথাও কোথাও পিলারগুলোর ক্ষতি করছে। তুরাগ বালু নদের অংশে জাহাজের রশি বাঁধার ফলেও বেশকিছু পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পিলার অপসারণ করা না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। ফলে সেগুলোও মেরামত করতে হয়েছে আমাদের। লোকবলের অভাবে সবসময় এসব যথাযথভাবে তদারকি করা যায় না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এসব পিলার স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদীর ভূমি দখল রোধ করা। কিন্তু তুরাগ নদের টঙ্গী অংশে দেখা গেছে, দখলদাররা সীমানা পিলারের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। সেখানে বিস্তৃত অংশজুড়ে সীমানা পিলারের ভেতরেই বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দখলদাররা তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা বুড়িগঙ্গার তীরে স্থাপিত সীমানা পিলারের ভেতর অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এতে নদী দখল রোধে এসব সীমানা চিহ্ন কোনো কাজে আসছে না বলেও স্বীকার করেছেন তারা। তবে শতবর্ষ মেয়াদি এসব পিলারের ফলে ব্যাপকহারে নদীর সীমানায় বহুতল অবকাঠামো নির্মাণ কমেছে বলে দাবি করছেন তারা।

তবে সীমানা পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জানেন না বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, পিলার ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ধরনের অভিযোগ প্রমাণসহ দেখাতে পারলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন