বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

খেলা

তৈরি হয়েই জাতীয় দলে আসার তাগিদ ডোমিঙ্গোর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে পরাজয় শেষে বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও ব্যাটার লিটন কুমার দাসের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, জাতীয় দলে আসা ক্রিকেটারদের যথেষ্ট ভালোভাবে তৈরি করছে না ঘরোয়া ক্রিকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ বলেন, বেশ কিছু মেধাবী ও সম্ভাবনায় তরুণ ক্রিকেটার আসছে, তবে আন্তর্জাতিক ব্যাটার ও বোলার হিসেবে জায়গা করে নিতে তাদের আরো লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে কিংবা এ-দলের হয়ে তারা যত বেশি ক্রিকেট খেলবে ততই জাতীয় দলের জন্য ভালো। এ মুহূর্তে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঢুকতে হলে বিশেষভাবে প্রস্তুতি দরকার। এটা বিসিবিকে নিশ্চিত করতে হবে যে, যারা আসছে তারা যেন দলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পায়ের তলে মাটি খুঁজে পেতে খুব বেশি সময় না নেয়।

তাইজুলের বোলিং আর লিটনের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ ডোমিঙ্গো। তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ৬০ গড়ে রান করেছে লিটন। মিডল অর্ডারে সে আমাদের হয়ে সত্যিই খুব ভালো কিছু ইনিংস খেলেছে। ৬ কিংবা ৭ নম্বরে সে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে; এই পজিশনে ব্যাটিং করে সে শেষ পর্যন্ত দলের আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখছে। আমরা জানি, সে অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়। গত এক বছরে টেস্টে সে আমাদের জন্য ইতিবাচক প্রাপ্তি। সম্ভবত আর এক বছরের মধ্যে সে ৪ কিংবা ৫ নম্বরে উঠে আসবে।

প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৭ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে লিড এনে দেয়া তাইজুলকে প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশ দলনায়ক মুমিনুল। তিনি বলেন, আমি মনে করি এই ম্যাচে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাইজুলের বোলিং। এই পিচে সে আট উইকেট নিয়েছে, যা কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমি মনে করি সে অনেক উন্নতি করেছে যা সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে। তাইজুলের কারণেই আমরা লিড নিতে পেরেছি।     

উইকেট নিয়ে মুমিনুল, আমি এরকম উইকেট পছন্দ করি। এটা ছিল সম্পূর্ণ ফ্লাট উইকেট। ব্যাটিংয়ের জন্য এমন উইকেট আদর্শ। তবে হ্যাঁ, এটা পেস বোলারদের জন্য আদর্শ উইকেট নয়। এমন ফ্লাট উইকেটে কীভাবে বল করতে তা জানতে হবে তাদের। আমাদের ফাস্ট বোলারদের আরো বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এটা স্পিন উইকেট ছিল না, এটা ছিল ফ্লাট উইকেট। স্পিন উইকেটে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দিন থেকে টার্ন করে। স্পিন উইকেটে ন্যূনতম চার-পাঁচটি বল টার্ন করে। এখানে একটি কিংবা দুটি বল টার্ন করেছে।

ডোমিঙ্গো বাংলাদেশের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় স্কোর না পাওয়াকে দেখছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আমি মনে করি এটা সত্যিই বেশ ভালো উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসই আমাদের ডুবিয়েছে। ২৫০-২৮০ স্কোর পেলে আমরা দারুণ অবস্থানে থাকতাম। আমি মনে করি, ছন্দে থাকলে টেস্টে আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলি। বিষয়টি আমি আমার কোচদেরও (সাপোর্ট স্টাফ) বলেছি যে, আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে আছি। যখন ভালো উইকেটে খেলি তখন হয়তো সেরকম আগুনে বোলার আমরা পাই না, যেভাবে পাকিস্তান পেয়েছে। আবার যখন স্পিন উইকেটে খেলি তখন আমাদের স্পিনাররা জ্বলে ওঠে এবং ব্যাটাররাও প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। আমাদের ব্যাটিং লাইন-আপের মধ্যে যদি আত্মবিশ্বাস আনতে হয়, তবে ব্যাটে রান আসতে হবে। এটা কঠিন পরিস্থিতি। ঐতিহাসিকভাবে ভালো উইকেটে বাংলাদেশের সিম বোলাররা ধুকছে। আবার আমাদের ব্যাটাররা ধুকছে স্পিন উইকেটে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন