বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

শেষ পাতা

বিপিসি প্রস্তাব দিলে তেলের দাম কমানোর বিষয় বিবেচনা করব —বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ যেসব বাজার থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে সেখানে এখনো খুব বেশি দাম কমেনি। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেলের দাম কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দিলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। গতকাল রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২১-এর দ্বিতীয় দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ শীর্ষক কারিগরি সেশন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ইনভেস্টমেন্ট সামিটের বিদ্যুৎ জ্বালানিবিষয়ক কারিগরি সেশনে সভাপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা . তৌফিক--ইলাহী চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, হাইড্রোজেন ফুয়েল নিয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। ক্লিন এনার্জির প্রতি প্রথমেই গুরুত্ব দেয়া হবে। গ্যাস-তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এছাড়া আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন কার্বন ক্যাপচার স্টোরেজ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিতে।

কারিগরি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সারা দেশে ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দুই কোটি মানুষ বিদ্যুেসবা পাচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে অফগ্রিড এলাকায় ৩৫০ মেগাওয়াট অনগ্রিড এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সোলার ইরিগেশন, সোলার মিনি গ্রিড, বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি রূপান্তরের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগের পরিবেশ সৃজন করেছে। ফলে এখানে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ২০৪১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদনেই প্রয়োজন হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। বিশেষত সঞ্চালন বিতরণ ব্যবস্থায়ও ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

গ্রিন এনার্জির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ক্লিন গ্রিন এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ ৪৯ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এরই মধ্যে হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করে সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য ধরে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপপা) প্রেসিডেন্ট ইমরান করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইএফসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শিল্প অবকাঠামো প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ইসাবেল চ্যাটারটন, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, সিঙ্গাপুরের সেম্বকর্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল তুলি, বাংলাদেশে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইডিমন গিনটিং বাংলাদেশে শেভরনের প্রেসিডেন্ট ইরিক এম ওয়াকার বক্তব্য রাখেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন