শনিবার | জানুয়ারি ২২, ২০২২ | ৯ মাঘ ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে তুর্কি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের বৈঠক

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক নীতি আইনি কাঠামোয় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের বিনিয়োগকারীরা। সার্বিকভাবে বাণিজ্যিক পরিবেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হওয়ায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সদস্যদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকালে গতকাল এমন আগ্রহের কথা জানান বাণিজ্য প্রতিনিধি দলটি।

তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদলটির সঙ্গে গতকাল ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কেনান কালাইসি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করে তুরস্কের প্রতিনিধি দলটি। তারা বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি উত্কৃষ্ট গন্তব্যস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন।

সময় প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ডলার। আমদানি রফতানি ছিল যথাক্রমে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। যাতে প্রতিফলিত হয় তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো, নির্মাণ, রেলওয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল যন্ত্রপাতি, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিসহ অন্যান্য খাত বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। এজন্য তিনি তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, তুরস্কের মোট আমদানির মাত্র দশমিক ২১ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। এজন্য দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরো বেশি হারে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ-তুরস্ক বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  

প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাবে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি বেশ কম বলে আলোচনাকালে উল্লেখ করেন তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিক। এজন্য তিনি দুই দেশের বাণিজ্য বিনিয়োগের টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি তুরস্কে একটি বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পৃথিবীর ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে তুরস্ক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থায় দুই দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ করে বেসরকারি খাতের পার্টনারশিপ আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, তুরস্কের উৎপাদিত যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হলেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এজন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বেশি হারে দেশটি থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির আহ্বান জানান তিনি।

তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কেনান কালাইসি বলেন, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিগগিরই বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন