বুধবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

দেশের খবর

ঝালকাঠিতে বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও চলছে পাঠদান

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম আনইলবুনিয়া কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম আনইলবুনিয়া কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন দেয়াল পিলারে। ভবনের ছাদ দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে। প্রায় বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তারার টুকরো পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। অবস্থায় পুরো ছাদ কিংবা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে। কয়েক ধাপে ভবনটির ছাদ, পিলার দেয়াল মেরামত করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

সরেজমিন গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আনইলবুনিয়া গ্রামে ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এরই মধ্যে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই বিদ্যালয় ভবনের ছাদ দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভবনের বিভিন্ন দেয়াল পিলারে ফাটল ধরেছে। তবে কয়েক ধাপে ভবনটি সংস্কার করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার জানায়, পুরনো ভবনের কক্ষে তাদের ক্লাস করতে হয়। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টির সময় শ্রেণীকক্ষের মধ্যেও পানি চলে আসে। তাই ক্লাস করা যায় না। এতে লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়।

অন্য এক শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার জানায়, আমাদের বিদ্যালয়টি খুবই পুরনো। অনেক জায়গা থেকে ফাটল ধরেছে ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই ক্লাসে পানি ঢুকে পড়ে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন খান বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। দেয়াল পিলার কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। বর্ষার সময় সব কক্ষের ছাদ থেকে পানি পড়ে। শিশুদের কক্ষের বাইরে বসে ক্লাস নিতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। গত বছরও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের ফাটল ভাঙা অংশ সংস্কার করেছি। ছাদ থেকে পানি পড়ার কারণে ছাদে নতুন করে ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া ভবনের সামনের পিলারের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গিয়েছিল, সেসবও মেরামত করেছি। ভবনটি ২০১৮ সালে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ নতুন ভবন দেয়ার জন্য সয়েল টেস্ট করে গেলেও করোনার কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। আমরা চাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খুব দ্রুত নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হোক।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। করোনার কারণে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সমস্যা হয়েছে। শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন