শনিবার | জানুয়ারি ২৯, ২০২২ | ১৬ মাঘ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জ্বালানি খাতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা জার্মানির

বণিক বার্তা ডেস্ক

জার্মানির আমরুম দ্বীপের কাছে আমরুমব্যাংক ওয়েস্ট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প ছবি: রয়টার্স

জ্বালানিসংক্রান্ত উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে দেশটির সরকারকে অবশ্যই নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কিত প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। তা না হলে দ্রুত কয়লানির্ভরতা থেকে সরে আসার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনটাই মনে করছে দেশটির শিল্প-কারখানাগুলোর জোট। খবর রয়টার্স।

ইউটিলিটি শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য আরো ভালো পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

শুরুতে কয়লানির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসতে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে জমা দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে হবে। সময়ের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতটি থেকে আসতে হবে, গত বছর যা ছিল ৪৫ দশমিক শতাংশ। অন্যদিকে বিদ্যুতের চাহিদার ২৭ শতাংশ মেটাত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো।

ইউটিলিটি অ্যাসোসিয়েশন বিডিইডব্লিউর প্রধান কার্সটিন আন্দ্রেই বলেন, কয়লানির্ভরতা তখনই দ্রুত কমানো যেতে পারে যদি আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একেবারে বন্ধ করে দিই। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ভীষণ উচ্চাভিলাষী। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রতীরে ১০০ থেকে ১৩০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

পথে যেসব বাধা আছে সেগুলো দূর করতে জার্মানি কিছু পদক্ষেপ নিতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে শতাংশ ভূমি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণ করা এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্য প্রতিটি বাড়ির ছাদ ব্যবহার করা। এতে করে ২০৩০ সালের মধ্যেই ২০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

সিমেন্স এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ান ব্রাঞ্চ বলেন, এখন দ্রুত এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। নষ্ট করার মতো সময় এখন আর হাতে নেই।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে বিদ্যুতের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৮০ থেকে ৭৫০ টেরাওয়াট ঘণ্টার মতো। এর কারণ হলো ডিজিটাইজেশন আরো বাড়বে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বেড়ে যাবে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি বছর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় তিন গুণ বেড়বে।

২০৩০ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন ইলেকট্রোলাইসিসের পরিমাণ ১০ গিগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে দি অ্যাসোসিয়েশন ফর গ্যাস অ্যান্ড ওয়াটার (ডিভিজিডব্লিউ) কিন্তু তারা এটাও জানিয়েছে যে, প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে জার্মানিতে এখন মাত্র ২০ শতাংশ জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ আসে কয়লা, তেল গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি থেকে। সব বিদ্যুৎই ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, পরিবহন শীতের সময় ভবনগুলোকে উষ্ণ করার কাজে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় গ্যাস পরিবহনের যে সরবরাহ লাইন রয়েছে সেগুলো হাইড্রোজেন পরিবহনে প্রস্তুত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। এগুলো তৈরি করা হয়েছে মূলত পারমাণবিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে প্রতিস্থাপনের জন্য।

মুহূর্তে গ্যাস খাত এটা নিশ্চিত হতে চায় যে, পাইপলাইনগুলো হাইড্রোজেন পরিবহনে সক্ষম। উৎপাদনের পাশাপাশি হাইড্রোজেনের আমদানিও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন