বৃহস্পতিবার | ডিসেম্বর ০২, ২০২১ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দেশের খবর

গ্রামীণ ব্যাংকের নেত্রকোনা চল্লিশা শাখা

মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা

নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে ৬৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত গ্রাহকরা বুধবার বিকালে ব্যাংকের ওই শাখায় জড়ো হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের টাকা ফেরত চান।

এলাকাবাসী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে জেলা শহরের সাতপই এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালামের স্ত্রী নাজমা বেগম ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি যোগদান করেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি জেলা শহরের সাতপাই, চল্লিশা ইউনিয়নের ইয়ারনসহ আশপাশের এলাকায় হতদরিদ্র মানুষকে নিয়ে সমিতি গঠন করেন। পরে ব্যাংক থেকে এসব গ্রাহকের নামে ঋণ নেন। তার ছেলের অসুস্থতার কথা বলে কৌশলে গ্রাহকদের কিছু টাকা দিয়ে বেশির ভাগ টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যাংকের ৬৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে এভাবে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা তিনি হাতিয়ে নেন। যার কাছ থেকে তিনি টাকা নিতেন অন্যজন যাতে না জানতে পারে, তার জন্য অনুরোধ করতেন। এক পর্যায়ে চলতি বছরের এপ্রিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গ্রাহকরা নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ করেন।

গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর থেকে কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন। বুধবার বিকালে তদন্ত দল তাকে ব্যাংকের ওই শাখায় ডেকে আনে। খবর পেয়ে প্রতারিত গ্রাহকরা ব্যাংকের ওই শাখায় জড়ো হয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের ওই শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করে কেউ কেউ দেউলিয়া হয়েছেন। অনেককে বাড়ি ছাড়া পর্যন্ত হতে হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংক চল্লিশা শাখার মাঠকর্মী নাজমা বেগম টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি অসুবিধায় পড়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম। ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। দেখি কীভাবে কী করা যায়।

গ্রামীণ ব্যাংক চল্লিশা শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এজন্য ব্যাংকের কোনো দায় নেই।

গ্রামীণ ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান আকন্দ বলেন, মাঠকর্মী নাজমা বেগম যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তারা আগে বিষয়টি জানাননি। কিছুদিন আগে তার চালচলনে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি কিছুটা জানাজানি হয়। গ্রাহকরা গত এপ্রিলে অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন