বৃহস্পতিবার | ডিসেম্বর ০২, ২০২১ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

হিলি স্থলবন্দর

অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, হিলি

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সময়ে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১২৯ কোটি ৭৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের বাকি সময়ে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ করায় এনবিআর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগস্টে ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অক্টোবরে ৩৯ কোটি লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ করায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআর থেকে অনেক বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। তবে বন্দরের রাজস্ব আহরণ নির্ভর করে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর। যদি আমদানি-রফতানি বাড়ে তবে রাজস্ব আহরণ বাড়বে আর যদি ধর্মঘটসহ অন্য কোনো কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয় বা কমে তাহলে রাজস্ব আহরণ কমবে।

বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুধু আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া সব পণ্যই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। তবে সেক্ষেত্রে আমদানীকৃত পণ্যের ওজন সঠিক থাকতে হবে, ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য ঠিক থাকতে হবে, এইচএস কোড ঠিক থাকতে হবে। বর্তমানে যে হারে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হচ্ছে তাতে অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি রেয়াতি শুল্কহারে চাল আমদানির সময়সীমা শেষ হওয়ায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং পেঁয়াজের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন খুব সহজ হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন