শনিবার | নভেম্বর ২৭, ২০২১ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

১০ বছরের সর্বোচ্চে অ্যারাবিকা কফির দাম

বণিক বার্তা ডেস্ক

ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) অ্যারাবিকা কফির দাম প্রায় ১০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সরবরাহ সংকটের তীব্রতায় দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দামও। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

গত মঙ্গলবার আইসিইতে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক শতাংশ বেড়েছে। প্রতি পাউন্ডের দাম ডলার ৩৭ সেন্টে স্থির হয়েছে। এর আগে কার্যদিবসের শুরুতে পণ্যটির দাম ডলার ৩৯ সেন্টে পৌঁছে, যা ২০১২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

র‍্যাবোব্যাংক জানায়, রসদ-সংক্রান্ত উদ্বেগ বাজারজুড়ে আগ্রাসী ক্রয়প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোস্টাররা ঝুঁকি এড়াতে একরকম হুড়োহুড়ি করেই কফি ক্রয় করছেন। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। বরং এটি আরো বাড়তে পারে। এদিকে জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন রোবাস্তা কফির দাম দশমিক শতাংশ বেড়েছে। স্থির হয়েছে হাজার ২৭০ ডলারে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজারে কফির তীব্র সংকট চলছে। চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত সরবরাহ। এমন সংকটের সূত্রপাত ব্রাজিলে। বিশ্বজুড়ে অ্যারাবিকা কফির শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ এটি। চলতি বছর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরা তুষারপাতের কবলে পড়ে লাতিন আমেরিকার দেশ। বিপর্যয় নামে কফি উৎপাদনে। বর্তমান উৎপাদন নিয়েই শুধু নয়, ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করেছে। উৎপাদকরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কফি গাছ সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে নতুন করে রোপণ করা গাছগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব গাছের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বাইরে ঊর্ধ্বমুখী সারের দাম শ্রমিক সংকটের কারণেও উৎপাদকরা হিমশিম খাচ্ছেন। চলতি বছর অ্যারাবিকা কফির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

শুধু কফিই নয়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে চিনির বাজারেও। আইসিইতে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড অপরিশোধিত চিনির দাম দশমিক শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৮৯ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। একই চুক্তিতে সাদা চিনির দাম দশমিক শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন ৫১১ ডলার ২০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চিনির শীর্ষ উৎপাদন ব্রাজিলে বৈরী প্রতিস্থিতির কারণে সংকট দেখা দেয়। এটি বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করায় বাড়তে থাকে দাম। ভয়াবহ খরা তুষারপাতের কারণে দেশটির সরকার চলতি মৌসুমের জন্য চিনি উৎপাদন পূর্বাভাস ১০ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদনে নিম্নমুখিতার পূর্বাভাসও মিলেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন