সোমবার | নভেম্বর ২৯, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

চায়ের বৈশ্বিক উৎপাদন ১১% বেড়েছে

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১৩৬ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে ছবি: রয়টার্স

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় পণ্য চা। মহামারীর শুরু থেকে অন্যান্য পণ্যের চাহিদা ব্যবহারে ভাটা পড়লেও কমেনি চায়ের কদর। কিন্তু লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধের কারণে দেশে দেশে পঙ্গু হয়ে পড়ে চা শিল্প। অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে বাজার। মন্দা দেখা দেয় আমদানি-রফতানিতেও। তবে বছরের চিত্র ভিন্ন। কভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন নতুন ধরনের সঙ্গে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চা শিল্প। বেড়েছে বৈশ্বিক উৎপাদন।

গ্লোবাল টি ডাইজেস্টের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১৩৬ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি কেজি।

চা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ চার দেশ চীন, ভারত, শ্রীলংকা কেনিয়া। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে কেনিয়ার চা শিল্প। রয়টার্সের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শতাংশ কমে যায়। উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। কেনিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি সত্ত্বেও চায়ের বৈশ্বিক উৎপাদনে মন্দা কাটছে। এর প্রধান কারণ চা উৎপাদনে ভারতের লক্ষণীয় সাফল্য।

গ্লোবাল টি ডাইজেস্টের সমন্বয়ক রাজেশ গুপ্তা বলেন, বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী চা উৎপাদন প্রায় ১৩ কোটি কেজি বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে ভারতে।

রাজেশ গুপ্তার দেয়া তথ্য বলছে, বছরের এখন পর্যন্ত ভারত ৭৯ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি লাখ ৩০ হাজার কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ১২ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার কেজি বেড়েছে।

শ্রীলংকার উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে। দেশটি এখন পর্যন্ত ২০ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয়েছিল ১৭ কোটি  ৭৩ লাখ ৫০ হাজার কেজি। অর্থাৎ উৎপাদন বেড়েছে কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার কেজি বা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে শুধু কেনিয়ার উৎপাদনই কমেছে। দেশটি এখন পর্যন্ত ২৭ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে। অথচ গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয় ৩০ কোটি ১৬ লাখ কেজি।

প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ কেজি উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে ১২ কোটি ২০ লাখ কেজির কাছাকাছি অবদান রেখেছে ভারত। অন্য দেশগুলোর অবদান মাত্র কোটি ৫০ লাখ কেজি। কেনিয়ায় সৃষ্ট সংকট বৈশ্বিক উৎপাদনকে নিম্নমুখিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। কিন্তু ভারতের নেতৃত্বে অন্যান্য দেশের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি এতে ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ব্ল্যাক টি উৎপাদনে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ভারত। দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে কেনিয়া শ্রীলংকা। 

ভারতের যেসব রাজ্যে চা চাষ হয়, সবগুলোতেই উৎপাদন বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। দেশটির উৎপাদকরা মনে করছেন, বছরের বাকি সময়গুলোতেও যদি চা উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে বছর দেশটির উৎপাদন ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছবে।             সূত্র: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×