শনিবার | নভেম্বর ২৭, ২০২১ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক খবর

আরো দ্রুতগতিতে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম ডেল্টা প্লাস

বণিক বার্তা ডেস্ক

ডেল্টা প্লাস নামে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন আরেকটি ধরন নিয়ে গবেষণা করছেন ব্রিটিশ ভাইরোলজিস্টরা। তাদের ভাষ্যমতে, নতুন ধরন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও অনেক ভয়াবহ গতিতে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম।

ইউকে হেলথ সার্ভিস এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) বর্তমানে ডেল্টা প্লাসের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা আগের ধরনগুলোর চেয়ে আরো মারাত্মক হয়ে ওঠার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, করোনার প্রচলিত টিকাগুলো নতুন ধরনের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের অধিকাংশই ডেল্টা ধরনের। তবে এর পাশাপাশি বর্তমানে দেশটিতে ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণও বাড়ছে। ডেল্টার ঈষৎ পরিবর্তিত ধরনকে বিজ্ঞানীরা এখন ডেল্টা প্লাসের পাশাপাশি এওয়াই . হিসেবেও অভিহিত করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া কভিড আক্রান্তের শতাংশ ডেল্টা প্লাসে সংক্রমিত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার বা প্রচলিত টিকাগুলোকে অকার্যকর করে দেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও বর্তমানে ডেল্টার তুলনায় ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণ তুলনামূলক দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে।

বিষয়ে ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণশীলতার হার ডেল্টাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তবে এটিকে এখনো ডেল্টার মতো ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন বা উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ঝুঁকির ভিত্তিতে জীবাণুর ধরনগুলোকে নানা ধরনের শ্রেণীতে ভাগ করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বা প্রাণঘাতীগুলোকে ধরা হয় ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, নভেল করোনাভাইরাস এখন প্রতিনিয়তই মিউটেশনের মাধ্যমে ধরন পাল্টাচ্ছে। সেদিক থেকে নিত্যনতুন ধরনের আবির্ভাবে অবাক হওয়ার তেমন কিছু নেই।

আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য এখন কভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ বিতরণের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে কভিড মহামারীর জন্য দায়ী ভাইরাসের বিদ্যমান ধরনগুলোর মধ্যে কোনোটিই এখন পর্যন্ত বিদ্যমান টিকাগুলোকে আরো শক্তিশালী করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি।

বিষয়ে ইউকেএইচএসএর প্রধান নির্বাহী . জেনি হ্যারিসের মন্তব্য হলো নভেল করোনাভাইরাসের বিদ্যমান সব ধরন নিয়ে জনগণের প্রতি আমাদের সাধারণ উপদেশ হলো টিকা নিতে হবে এবং ডাক আসা মাত্র দেরি না করে তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে হবে। চলাফেরা করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক পরে চলাচল করতে হবে। ঘরের মধ্যে কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে হলে দরজা-জানালা খোলা রাখতে হবে, যাতে করে পর্যাপ্ত মাত্রায় হাওয়া-বাতাস চলাচল করতে পারে। এছাড়া কারো মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং ফলাফল নেগেটিভ আসার আগ পর্যন্ত বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন