রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

টেলিকম ও প্রযুক্তি

চীনে অ্যাপলই কি সর্বশেষ মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট

বণিক বার্তা ডেস্ক

চীনের সাংহাইয়ে অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর ছবি: বিবিসি

একটা সময় ছিল চীনে সরব উপস্থিতি ছিল প্রায় সব মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টের। এমনকি ফেসবুকও জায়গা করে নিয়েছিল সর্ববৃহৎ বাজারটিতে। বর্তমানে কেবল অ্যাপলকেই দেখা যাচ্ছে বাজারটিতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বহাল থাকতে। খবর বিবিসি।

গত সপ্তাহে মাইক্রোসফট জানায়, চীন থেকে তাদের সোস্যাল নেটওয়ার্ক লিঙ্কডইন গুটিয়ে নিচ্ছে তারা। চীনা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কটির। অ্যাপলও অবশ্য চীনে বিভিন্ন সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে অ্যাপ স্টোর থেকে জনপ্রিয় দুটো ধর্মীয় অ্যাপ সরাতে বাধ্য হয় অ্যাপল। পরবর্তী সময়ে আরো দেখা গেছে, অ্যামাজন মালিকানাধীন অডিবল ইয়াহু ফাইন্যান্স অ্যাপও সরিয়ে দেয়া হয়। অ্যাপ স্টোর পর্যবেক্ষণকারী গ্রুপ অ্যাপল সেন্সরশিপ জানায়, চলতি মাসে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাপ হারিয়ে যেতে দেখেছে।

বেইজিংয়ে দরজার ওপারে কী ঘটছে তা অনুমান করা কঠিন। তবে এটা স্পষ্ট চীনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তিক্ত লড়াই চলছে অ্যাপল মাইক্রোসফটের। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি টাইটান রয়েছে। টেনসেন্ট, আলিবাবা হুয়াওয়ে বড় আকারের বৈশ্বিক কোম্পানি। কিন্তু কোম্পানিগুলোর বিশাল ক্ষমতা নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ প্রকাশ করছে চীন সরকার। বাজারে একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহারের অভিযোগে গত এপ্রিলে আলিবাবাকে রেকর্ড ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করে চীনা তদারকি সংস্থা। প্রযুক্তি অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে গত আগস্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করে চীন সরকার। এছাড়া বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিশাল ক্র্যাকডাউনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও কোনো ছাড় দিচ্ছে না কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার।

দ্য গ্রেট ফায়ারওয়াল অব চায়নার লেখক জেমস গ্রিফিথ জানান, অ্যাপল মাইক্রোসফট বুঝতে শুরু করেছে চীনের বাজারে তাদের অবস্থান আরো চ্যালেঞ্জের মুখে। এজন্য চীনের বাজারে বুঝে শুনে পা ফেলছে তারা।

নভেম্বর কার্যকর হতে যাওয়া চীনের পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রটেকশন (পিআইপিএল) মাইক্রোসফটের কোমর ভেরে দিয়েছে। চীনে সক্রিয় থাকলে লিঙ্কডইনের ওপর আরো নীতিমালার খড়গ নামত।

অন্যদিকে চীনে মাইক্রোসফটের চেয়ে ভিন্ন অগ্রাধিকার অ্যাপলের। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রযুক্তি কোম্পানির চেয়ে চীনে শক্তিশালী অবস্থান টিম কুক নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটির। গত প্রান্তিকে চীন তাইওয়ান থেকে প্রায় হাজার ৫০০ কোটি ডলার আয় করেছে অ্যাপল। তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনও বড় আকারে চীননির্ভর। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চীন সরকারের সব নীতিতেই সায় দিয়েছে অ্যাপল। এমনকি সেন্সরশিপের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও চীনের নীতি অনুসরণ করছে তারা। সব কোম্পানি অ্যাপলের মতো আপসকামী নীতি অনুসরণ করছে না। মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল ২০১০ সালে চীন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সার্চ বা অনুসন্ধান সেন্সর করাতে সন্তোষ বোধ করেনি তারা।

সিলিকন ড্রাগনসের লেখক রেবেকা ফ্যানিন জানান, মাইক্রোসফট কর্তৃক লিঙ্কডইন গুটিয়ে নেয়ায় অ্যাপল এখন বড় টার্গেটের মুখে। তবে চীনের বাজারে টিকে থাকতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই চালাবে তারা। তিনি আরো বলেন, চীনের বাজারে নেতৃত্বের আসনে আছে অ্যাপল। যেকোনো ইস্যুতেই বাজার থেকে পাততাড়ি গুটানোর মতো নয় তারা।

তবে বদ্ধ দরজার ওপাশে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অ্যাপলের কী সমঝোতা হচ্ছে, সে বিষয়গুলো হয়তো আমাদের সামনে আসছে না। এসব বিষয় নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে দেখা যায় না ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোভিত্তিক কোম্পানিটিকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন