রবিবার | নভেম্বর ২৮, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ২০% কমেছে

বণিক বার্তা ডেস্ক

ইউরোপের বাজারে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অঞ্চলটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ২০ দশমিক শতাংশ কমেছে। এর ফলে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে। গ্যাস ইনফাস্ট্রাকচার ইউরোপ (জিআইই) তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির এমন তথ্য বাজারকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বর্তমানে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আসন্ন শীত মৌসুমে মজুদ সংকট অব্যাহত থাকলে দাম আরো বাড়বে।

তথ্য বলছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ কেন্দ্রগুলোর ৯৫ শতাংশই পরিপূর্ণ ছিল। সময় সব মিলিয়ে মজুদ ছিল ১০ হাজার ৮০০ ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে হাজার ৩০০ ঘনফুট কমে মজুদ দাঁড়ায় হাজার ৫০০ ঘনফুটে। সে হিসাবে মজুদ কেন্দ্রগুলো ৭৪ দশমিক শতাংশ পরিপূর্ণ রয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির মজুদ দাঁড়িয়েছে হাজার ৭৬০ কোটি ঘনফুটে। জার্মানিতে মজুদ রয়েছে হাজার ৬৫০ ঘনফুট। ফ্রান্সে বর্তমান মজুদের পরিমাণ হাজার ২৪০ ঘনফুট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে যুক্তরাজ্যের মজুদ সক্ষমতা পরিপূর্ণ রয়েছে। 

অন্যদিকে যেসব দেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সর্বনিম্ন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম নেদারল্যান্ডস। দেশটিতে বর্তমানে ১৪ দশমিক শতাংশ মজুদ রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রিয়ায় ৫৬ দশমিক এবং পর্তুগালে ৫৯ দশমিক শতাংশ মজুদ রয়েছে। অথচ গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসে মজুদ ছিল ৯০ দশমিক শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ৯০ এবং পর্তুগালে ৯৮ দশমিক শতাংশ।

ইউক্রেনের মজুদেও ধস নেমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মজুদ ছিল ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের একই সময় তা কমে ৪৪ শতাংশে নেমেছে। তুরস্কে বর্তমানে এক মাসের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ আছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র গরমের কারণে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দেশগুলো বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মজুদ থেকে স্থানীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করে। ফলে মজুদ সংকট দেখা দেয়। এদিকে ইউক্রেন হয়ে ইউরোপের বাজারে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়ে ওঠে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়াও সংকটের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বছর শীতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠাণ্ডা পড়লে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে ইউরোপের দেশগুলো।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×