সোমবার | নভেম্বর ২৯, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়

বিল-ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নেই ৩৮ লাখ ব্রিটিশ পরিবারের

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ১ কোটি ১৬ লাখ কর্মজীবী পরিবারের এক-তৃতীয়াংশ বার্ষিক ২৫ হাজার পাউন্ড বা তার কম উপার্জন করে। লন্ডনের একটি বাজার ছবি: এপি

কভিড-১৯ মহামারীতে ব্যাপক সংকোচনের মুখে পড়ে ব্রিটিশ অর্থনীতি। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দরিদ্র পরিবারগুলো। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে দেশটির নিম্ন আয়ের প্রায় ৩৮ লাখ পরিবার বাসা ভাড়া, ইউটিলিটি বিল কিংবা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। সংখ্যা মহামারী-পূর্ববর্তী সংখ্যার চেয়ে তিন গুণ বেশি। নতুন একটি সমীক্ষায় চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের দরিদ্র পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেছে। দ্য গার্ডিয়ান।

দাতব্য প্রতিষ্ঠান জোসেফ রনট্রি ফাউন্ডেশনের (জেআরএফ) গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কোটি ১৬ লাখ কর্মজীবী পরিবারের এক-তৃতীয়াংশ বার্ষিক ২৫ হাজার পাউন্ড বা তার কম উপার্জন করে। পরিবারগুলোর বাড়ি ভাড়া কিংবা বন্ধকি ঋণ, ইউটিলিটি বিল, কাউন্সিলের কর বিল ব্যক্তিগত ঋণ বকেয়া রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেআরএফ কভিডজনিত আর্থিক চাপ থেকে পরিবারগুলোকে সহায়তায় ব্রিটিশ সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জেআরএফের পলিসি পার্টনারশিপ-বিষয়ক উপপরিচালক কেটি স্মুকার বলেন, পরিসংখ্যান অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা ভাবছেন, কীভাবে শিশুদের পাতে খাবার তুলে দেবেন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করবেন। তরুণরা তাদের বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে এবং উচ্ছেদ এড়াতে বন্ধুদের থেকে ধার নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে ইংলিশ শহরে ২০০টি কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্বকারী টরি-নিয়ন্ত্রিত জেলা পরিশোধ নেটওয়ার্ক (ডিসিএন) শীতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে। কারণ এরই মধ্যে ফোরলগ স্কিমের মতো সরকারি সহায়তা ব্যবস্থা উচ্ছেদ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে সম্পন্ন করা জেলা পরিষদের একটি জরিপে দেখা গেছে, গত চার মাসে গৃহহীনদের সংখ্যা বেড়েছে। জেলা পরিষদ জানিয়েছে, সহায়তা চাওয়া পরিবার এবং গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য অন্যান্য জটিল প্রয়োজনে পড়া পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে।

ডিসিএনের মুখপাত্র ফিল কিং বলেন, কাউন্সিল দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা না দেয়া হলে গৃহহীনতা মোকাবেলায় গত ১৮ মাসে সরকারের সব অর্জন অনেকটা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জরিপের ফলাফলগুলো মহামারীর কঠিন প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে।

মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের নিম্ন আয়ের হাজার ২০০ পরিবারের ওপর জরিপ পরিচালনা করে জেআরএফ। ফলাফলে দেখা যায়, লাখ ৫০ হাজার পরিবারের বাড়ি ভাড়া, ১৪ লাখ পরিবারের কাউন্সিল ট্যাক্স বিল এবং আরো ১৪ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। দেশটির নিম্ন আয়ের এক-তৃতীয়াংশ পরিবার এমন বকেয়ার মধ্যে রয়েছে। মহামারীর আগের অনুপাত ১১ শতাংশ ছিল। এক্ষেত্রে শিশু, কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহামারীর এমন পরিবারগুলোকে টেনে ধরেছে, যারা আগে সময়মতো বিল পরিশোধে সক্ষম ছিল। বিল বকেয়া থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার মহামারীর আগে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করত বলে জানিয়েছে।

ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন বিভাগের মুখপাত্র বলেন, আমরা জানি পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতার দিকে সবচেয়ে উপযুক্ত উপায় হলো ভালো বেতনের কাজের ব্যবস্থা করা। সে কারণে আমরা কয়েকশ কোটি পাউন্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। এটি আমাদের কর্মীদের দক্ষতা সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×