রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দেশের খবর

হিমাগার মালিকদের সভায় বক্তারা

রংপুর বিভাগে হিমাগারের অর্ধেক আলুই অবিক্রীত

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

করোনায় সারা দেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের ৮০টি হিমাগারের ৫০ শতাংশ আলুই অবিক্রীত রয়ে গেছে। এসব আলু এখনো হিমাগারের শেডভর্তি অবস্থায় আছে। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ব্যবসায়ী হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। তাই সংরক্ষিত আলু দুই মাসের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকরা। তারা সরকারকে ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

রংপুর চেম্বারের উদ্যোগে হিমাগারসমূহে সংরক্ষিত আলুর সার্বিক পরিস্থিতি ২০২২ সংরক্ষণ মৌসুমে করণীয় বিষয় নিয়ে গতকাল দিনব্যাপী রংপুর বিভাগীয় হিমাগার মালিকদের এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হিমাগার মালিকরা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

রংপুর চেম্বার ভবনের আরসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। চেম্বার সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি, বিসিআই রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এছাড়া মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা বগুড়া জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক . হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসতিয়াক আহমেদ, ইউনুছ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, চলতি মৌসুমের আলু বাজারজাতের আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যে সংরক্ষিত আলু বাজারজাত না হলে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত থাকবে। তাই তিনি ভর্তুকি দিয়ে হিমাগার মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১০ বছরের মধ্যে ছয় বছরই লোকসান দিয়ে হিমাগার মালিকরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তাই তিনি হিমাগার মালিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি প্রতিটি জেলায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সংগঠিত করতে সংগঠন তৈরি করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে হিমাগার মালিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের এম রহমান কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল মঈন মিনু, লালমনিরহাটের তিস্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকসুদ আহমেদ, ভরসা গ্রুপের পরিচালক আজিজুন নেছা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এমদাদুল হক ভরসা, ঠাকুরগাঁওয়ের হাওলাদার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম, কুড়িগ্রামের মোস্তফা হিমাগারের পরিচালক মো. জাহাংগীর আলম, নীলফামারীর মুক্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বাবু, রংপুরের ব্রাদার্স কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক, বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

এছাড়া মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের আওতাধীন রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলার হিমাগারের মালিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন