রবিবার | নভেম্বর ২৮, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সম্পাদকীয়

আলোকপাত

এসএমইর উন্নয়নে ক্লাস্টারভিত্তিক পরিকল্পনা

ড. মো. মাসুদুর রহমান

যেকোনো দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা একটি জনপ্রিয় ধারণা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠার পর  থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এসএমই ক্লাস্টারগুলোকে চিহ্নিত করার গুরুত্ব অনুধাবন করে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি পরিচালিত ক্লাস্টার ম্যাপিং স্টাডিতে দেশের ৫১টি জেলায় ১৭৭টি এসএমই ক্লাস্টার চিহ্নিত করা হয়। কোনো গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা শিল্প এলাকায় তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে একই বা সমজাতীয় উৎপাদন বা পরিষেবার অন্তত ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকলে তাকে একটি এসএমই ক্লাস্টার বলা হয়েছে ওই গবেষণায়। গবেষণার লক্ষ্য ছিল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে এসএমই ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ বাস্তবায়ন। চিহ্নিত এসএমই ক্লাস্টারগুলোর মধ্যে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হ্যান্ডলুম, নকশিকাঁথা, ক্ষুদ্র গার্মেন্ট, হ্যান্ডিক্রাফটস, চামড়াজাত পণ্য ক্লাস্টার অন্যতম।

জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ অনুসারে, গবেষণায় দেশব্যাপী বুস্টার সেক্টরে ১২৯টি ক্লাস্টার নন-বুস্টার সেক্টরে ৪৮টি ক্লাস্টার চিহ্নিত হয়, যেখানে মোট কর্মী বা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তার মধ্যে পুরুষ নারী কর্মী যথাক্রমে ৭৪ ২৬ শতাংশ। ১৭৭টি ক্লাস্টারের মোট ৭০ হাজার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

ক্লাস্টার ম্যাপিং স্টাডিতে আরো দেখা যায়, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম খুলনা বিভাগে ক্লাস্টারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বেশি।

এসব ক্লাস্টারের ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭৯ শতাংশ মাইক্রো, ১৬ শতাংশ ক্ষুদ্র এবং শতাংশ মাঝারি প্রতিষ্ঠান। এতে আরো পরিলক্ষিত হয়, কোনো সরকারি-বেসরকারি সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ক্লাস্টারগুলো বিকশিত হয়েছে। এসএমই ক্লাস্টারগুলোর বিকাশ বৃদ্ধির পেছনে মূলত বাজারের চাহিদা সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা দক্ষতার কারণে ক্লাস্টার উদ্যোক্তারা ব্যবসায় সফল হয়েছেন।

ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন স্থানের ক্লাস্টারের উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই মধ্যে ৭৫টি ক্লাস্টারে উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎপাদনশীল সেবা খাতের সঙ্গে জড়িত নির্দিষ্ট ক্লাস্টারের এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ দেয়। সরকারের বিদ্যমান বিভিন্ন আইন নীতিমালাকে এসএমইবান্ধব করে তুলতে পলিসি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় উদ্যোক্তা ক্লাস্টারের সমস্যা সমাধানে কাজ করে। ক্লাস্টার উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত ডিজাইন, পণ্য বহুমুখীকরণ, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, বিপণন কৌশল, অ্যাকাউন্টিং, অনলাইন মার্কেটিং, ভ্যাট-ট্যাক্স, হিট অ্যান্ড সার্ফেস ট্রিটমেন্ট, ফাউন্ড্রি, অগ্নিনিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয় এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ক্লাস্টারগুলোর উদ্যোক্তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া পণ্য বাজারজাতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তিকরণ এবং আইসিটি-বিষয়ক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সমসাময়িক বাজারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আইসিটি-বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ওয়েবসাইট তৈরি করে দেয় এসএমই ফাউন্ডেশন। এছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলায় এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তারা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে পণ্য বিক্রি, নতুন বাজার ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ, বিকল্প উৎপাদন পদ্ধতি বিষয়েও ধারণা লাভ করেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বগুড়ার শাঁওইল হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার, পিরোজপুরের বলদিয়া ক্রিকেট ব্যাট ক্লাস্টারে পলিসি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় রাস্তা মেরামত বিদ্যুৎ সংযোগ  দেয়া হয়েছে। নিয়মিত ডিজাইন পণ্য বহুমুখীকরণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শাঁওইল হ্যান্ডলুম ক্লাস্টারের পণ্যের ডিজাইনে আমূল পরিবর্তন এসেছে, যা দেশীয় বাজারে তাদের ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হোসিয়ারি ক্লাস্টারে পলিসি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় রাস্তা মেরামতের কাজ চলমান।

ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত কার্যক্রমের ফলে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র গার্মেন্ট শিল্প ক্লাস্টারের ম্যানুয়াল মেশিনের পরিবর্তে অটোমেটেড সেমি-অটোমেটেড মেশিনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। উৎপাদনে আধুনিক মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যের ফিনিশিং সেলাইয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং উৎপাদনও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাবনা হোসিয়ারি শিল্প ক্লাস্টার, কুমারখালী টেক্সটাইল শিল্প ক্লাস্টার, কুষ্টিয়া, নরসিংদী টেক্সটাইল শিল্প ক্লাস্টারে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন পণ্যের মান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

জামালপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নকশিকাঁথা ক্লাস্টারে পণ্যের ডিজাইন সেলাই পদ্ধতির উন্নতি হয়েছে। আগে ক্লাস্টারগুলোয় কাঁথা তৈরিতে গতানুগতিক ডিজাইন সেলাই প্রাধান্য পেত। তবে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে ডিজাইন সেলাইয়ের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ফলে সেলাইয়ে বৈচিত্র্য এবং ব্লক বাটিকের সংমিশ্রণের মাধ্যমে ডিজাইনে আমূল পরিবর্তন এসেছে; যা উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ কমানো উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি বাড়িয়েছে। দুই ক্লাস্টারে বর্তমানে নকশিকাঁথার পাশাপাশি থ্রি-পিস, টু-পিস, বেড কাভার, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন হয়।

ভৈরব পাদুকা শিল্প ক্লাস্টার, রাজশাহীর কালুহাটি পাদুকা শিল্প ক্লাস্টার চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ী লেদার ক্লাস্টারে পণ্য বহুমুখীকরণ প্রশিক্ষণের ফলে পণ্যের মানোন্নয়ন ডিজাইনে বৈচিত্র্য এসেছে। আগে ভৈরব পাদুকা শিল্প ক্লাস্টারে শুধু স্যান্ডেল তৈরি হতো। ফলে শীতকালে ক্লাস্টারটির পণ্যের চাহিদা অনেকাংশে হ্রাস পেত। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ওই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের জুতা তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানে ওই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তারা জুতা (অক্সফোর্ড সু) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছেন এবং পূর্ব মাদারবাড়ী লেদার ক্লাস্টারের উদ্যোক্তারা জুতা, স্যান্ডেলের পাশাপাশি বর্তমানে মানিব্যাগ, বেল্ট, চাবির রিং ইত্যাদিও তৈরি করছেন। কালুহাটি পাদুকা শিল্প ক্লাস্টারের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজাইনে বৈচিত্র্য এসেছে। পণ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রফতানি সক্ষম পণ্য উৎপাদনের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কালুহাটি পাদুকা শিল্প ক্লাস্টারে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার (সিএফসি) স্থাপনের কাজ চলমান। এছাড়া চামড়া খাতে ঢাকার হাজারীবাগের লেদার শিল্প ক্লাস্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া লেদার শিল্প ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ  দেয়া হয়েছে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল খাতের উদ্যোক্তারা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পার্টস, পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা পণ্যের গুণগত মান রক্ষায় সক্ষম হচ্ছেন না। এসএমই ফাউন্ডেশন বগুড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টার, পাবনা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টার, যশোর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে হিট অ্যান্ড সার্ফেস ট্রিটমেন্ট, ফাউন্ড্রি, সিএনসি মেশিন লার্নিং, টেস্টিং ইত্যাদি বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

শতভাগ রফতানিমুখী মৌলভীবাজারের আগর আতর ক্লাস্টারের উন্নয়নের লক্ষ্যে আগর আতরকে একটি শিল্প হিসেবে ঘোষণার জন্য অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের নভেম্বর আগরকে ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আগর কাঠ পরিবহনে ৪০০ বছরের পুরনো সমস্যা বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

এসএমই ফাউন্ডেশন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন শিল্প ক্লাস্টার চিহ্নিত করার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০টি ক্লাস্টার পরিদর্শন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। এরই মধ্যে যশোরের নকশিকাঁথা ক্রিকেট ব্যাট শিল্প ক্লাস্টার, সাভারের আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি, মানিকগঞ্জের বাঁশ-বেত শিল্প, পটুয়াখালীর বাউফলের মৃিশল্প, ঝালকাঠির শীতলপাটি শিল্প ক্লাস্টারের উন্নয়নে বহুমুখী কার্যক্রম চলছে। লক্ষ্যে ক্লাস্টারগুলো পরিদর্শন, মতবিনিময়সহ উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্প সুদে ঋণ কার্যক্রম, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্যের বাজারজাতসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এছাড়া বরিশাল, ফরিদপুর খুলনার কয়েকটি সম্ভাবনাময় শিল্প ক্লাস্টার পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী ক্লাস্টারগুলোর মধ্যে এক্সপোজার ভিজিটের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পণ্যের বাজার, কাঁচামালের উৎস, উৎপাদন পদ্ধতি, বাজারজাত পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে নতুন ক্রেতা বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ব্যবসার উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচ-মেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পণ্যের নতুন বাজার চিহ্নিত করে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্লাস্টারে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের সুবিধার্থে ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভিন্ন মেলা ম্যাচমেকিং কর্মসূচিতে ক্লাস্টারের পণ্য বিক্রয় প্রদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়।

এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে ২২টি ক্লাস্টারের প্রায় হাজার ৩০০ জনকে পণ্যের ডিজাইন, পণ্য বহুমুখীকরণ, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, বিপণন কৌশল, অ্যাকাউন্টিং, অনলাইন মার্কেটিং, ভ্যাট-ট্যাক্স, হিট অ্যান্ড সার্ফেস ট্রিটমেন্ট, ফাউন্ড্রি, অগ্নিনিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে; যা সার্বিকভাবে তাদের ব্যবসার উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তারা প্রধানত পণ্য বাজারজাত, যথাযথ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত উদ্যোক্তা সক্ষমতা, পণ্যের মানোন্নয়ন, কাজের পরিবেশ, স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিষয়ক নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। আর ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তা উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণ, উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ, স্টেকহোল্ডার ম্যাপিং রিপোর্ট, ভিশন বিল্ডিং কর্মশালা (সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার এলাকায়), ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন (যোগ্য ক্লাস্টার উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে), ক্লাস্টার উন্নয়নের জন্য খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ, বাস্তবায়ন, ফলোআপ প্রয়োজন অনুসারে উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিমার্জন সংশোধন ইত্যাদি ধাপ অনুসরণ করে।

সঠিক পলিসি সাপোর্ট সরকারি সহযোগিতায় ক্লাস্টার উদ্যোক্তারা ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তারাও ক্লাস্টারে প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহী হয়ে কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সমন্বিত এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়ন কার্যক্রম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বড় শিল্পের সহযোগী হিসেবেও এসএমই ক্লাস্টারগুলো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে তৃণমূল, স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল সে াতধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০০৭ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করার মাধ্যমে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখছে।

সরকার কর্তৃক গৃহীত ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প (এসএমই) উন্নয়ন নীতি কৌশল বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা এসএমই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নীতি কৌশলগুলোয় উল্লিখিত মৌলিক বিষয়াদি যেমন রাজস্ব আর্থিক বিষয়াদির পরামর্শ, এসএমই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন কৌশলে সহায়তা, টেকনো-অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ উন্নয়নবিষয়ক সহায়তা, এসএমই ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য সহায়তা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি বিনিময় কর্মসূচিতে সহায়তা, ভার্চুয়াল এসএমই ফ্রন্ট অফিস প্রতিষ্ঠাকরণ ইত্যাদি বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারকে নিয়মিত সহায়তা দেয় এসএমই ফাউন্ডেশন।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সিএমএসএমই খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মাত্র শতাংশ সুদে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা সফলভাবে বিতরণের পর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বিতরণের কাজ চলমান।

ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনাময় এসএমই সেক্টর/ক্লাস্টার/ক্লায়েন্টেল গ্রুপের উদ্যোক্তাদের ২০০৯ সাল থেকে শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচিত ব্যাংক নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া হয়, ফাউন্ডেশন থেকে সরাসরি কোনো ঋণ দেয়া হয় না। ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রমের আওতায় দেশের বিভিন্ন এসএমই সেক্টর/ক্লাস্টার/ক্লায়েন্টেল গ্রুপের প্রায় হাজার ১৩২ জন উদ্যোক্তাকে (নারী ৫২৪ জন, পুরুষ ১৬০৮ জন) প্রায় ১২০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।  এছাড়া এসএমই খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধিতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগ/জেলা শহরে নিয়মিত এসএমই ঋণ মেলা (ফাইন্যান্সিং ফেয়ার), ব্যাংকার-উদ্যোক্তা সম্মিলন, সেমিনার, ঋণ সম্পর্কিত ম্যাচমেকিং, ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ব্যাংকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

এসএমই উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা ফাউন্ডেশনের অন্যতম কার্যক্রম। কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইনস্টিটিউট অব এসএমই ফাউন্ডেশন এসএমই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে। ফাউন্ডেশনের আয়োজনে প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এসএমই ক্লাস্টারভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন, টেকনোলজি আইসিটি বেজড প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি), উৎপাদনশীলতা পণ্যের মান উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা অর্থ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ। কার্যক্রমের আওতায় এসএমই ট্রেডবডিজ/অ্যাসোসিয়েশনগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয় ফাউন্ডেশন।

এসএমই উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি উন্নয়ন, আমদানীকৃত প্রযুক্তি গ্রহণ, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রডাক্ট কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করে। এছাড়া ফাউন্ডেশন এসএমই উদ্যোক্তাদের গ্রিন টেকনোলজি এনার্জির দক্ষ ব্যবহারের ওপর নানামুখী কাজ করে।

নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসএমই খাত এবং এসএমই-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হালনাগাদ তথ্য উপাত্ত নিয়মিত জানানো হয়। এসএমই খাত প্রসারের লক্ষ্যে স্থানীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এসএমই-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত, টেকনোলজিসহ নানা বিষয়ে একটি তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

উন্নয়নের মূল সে াতধারায় নারী উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্তি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। -সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উইম্যান চেম্বার/ট্রেডবডিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ব্যাংকার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাবিষয়ক স্টাডি পরিচালনা, নারী উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পলিসি অ্যাডভোকেসি, পণ্য বাজারজাতে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মিলন আয়োজন। নারী উদ্যোক্তা অধ্যুষিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর যশোর হস্তশিল্প ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, পণ্যের মানোন্নয়ন, ডিজাইনে নতুনত্ব, বাজার সংযোগসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এছাড়া এসব ক্লাস্টার জেলা পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশন গঠন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এসএমই ফাউন্ডেশন সহায়তা দিচ্ছে।

এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়নে ব্যবসা সহায়ক বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়। যেমন এসএমই পণ্যের প্রচার, প্রসার বাজার সম্প্রসারণ, ভোক্তা উদ্যোক্তাদের মাঝে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন, অ্যাডভাইজরি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা সৃষ্টি পরিচালনায় দিকনির্দেশনা, বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা প্রদান; ব্যবসায়িক তথ্যাবলির সহায়িকা/ম্যানুয়াল প্রকাশ বিতরণ, ঢাকায় আটটি জাতীয় এবং বিভাগ জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ৮৬টি আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা আয়োজন, ৩৮ জন (২৫ জন নারী, ১২ জন পুরুষ, একজন তৃতীয় লিঙ্গ) উদ্যোক্তাকে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান।

গবেষণা পলিসি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান রেগুলেটরি প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার লক্ষ্যে এসএমই-সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কর্মকৌশল প্রণয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তসহ সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করে। ফাউন্ডেশন এসএমই উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য গবেষণা কেস স্টাডি পরিচালনা করে। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সংস্থা বরাবর উপস্থাপিত মোট ৪১৭টি প্রস্তাবনার মধ্যে ৭১টি সরকার/এনবিআর কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নের ফলে এরই মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের সুপারিশ লাভ করেছে। এসডিজি ২০৩০, বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসএমই খাত কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশ। ভারতে যা ৬০ শতাংশ, চীন জাপানে ৫০ শতাংশ। এসএমই নীতিমালা ২০১৯ অনুসারে, ২০২৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের। পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, দেশের মোট ৭৮ লাখ ১৩ হাজারের বেশি অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প বা সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছর বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় নীতি সহায়তা প্রয়োজন; যা দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে এবং সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প অর্জনে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন কর্মসূচি শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় সীমাবদ্ধ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সম্মানজনক কাজের সুযোগ তৈরি করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ অনুসারে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

 

. মো. মাসুদুর রহমান: চেয়ারপারসন, এসএমই ফাউন্ডেশন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×