রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

আমদানিনির্ভরতায় বিপাকে ভারতের স্টেইনলেস স্টিল শিল্প

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভারতের স্টেইনলেস স্টিল আমদানি বেড়েছে ১৭৭ শতাংশ ছবি: এপি

ভারতে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে স্টেইনলেস স্টিল আমদানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়েছে চীন ইন্দোনেশিয়া থেকে। অস্বাভাবিক আমদানি দেশটির গোটা ইস্পাত শিল্পকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদক ব্যবহারকারী। প্রতি বছর ৫০ লাখ টনেরও বেশি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। এটি দেশটির স্থানীয় চাহিদার জন্য যথেষ্ট। ১২ শতাংশ স্টেইনলেস স্টিল অবকাঠামো নির্মাণ, ১৩ শতাংশ অটোমোবাইল, রেলওয়ে অন্যান্য পরিবহন খাতে, ৩০ শতাংশ ক্যাপিটাল গুডসে, ৪৪ শতাংশ টেকসই গৃহস্থালি পণ্যে এবং শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যবহার করা হয়।

ভারতের শিল্প খাত সব ধরনের স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনে সক্ষম। চার দশক ধরে খাতটির যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) - শতাংশ। অথচ বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধির হার - শতাংশ। ইন্ডিয়ান স্টেইনলেস স্টিল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএসডিএ) তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের ইস্পাত মন্ত্রণালয় স্টেইনলেস স্টিল শিল্পের উন্নয়নে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৫-১৬ সালে ধাতুটির আমদানি পাঁচ লাখ টনের গণ্ডি ছাড়ায়, যা বার্ষিক ব্যবহারের ২০ শতাংশ। এতে করে বড় ধরনের জটিলতার মধ্যে পড়ে শিল্প খাতটি। জটিলতা থেকে উত্তরণে সরকার ২০১৫ সালে এন্টি-ডাম্পিং কর আরোপ করে। গুণগত মান নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়। চীন থেকে আমদানি কমাতে ২০১৬ সালে কাউন্টারভেইলিং কর (সিভিডি) আরোপ করা হয়। ফলে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে শুরু করে খাতটি।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বাজেট ঘোষণার পর স্টেইনলেস স্টিল শিল্পের প্রবৃদ্ধির ধারায় ছেদ পড়ে। ওই বাজেটে চীনে উৎপাদিত এবং দেশটি থেকে রফতানীকৃত স্টেইনলেস স্টিলের ওপর আরোপিত সিভিডি প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয় ইন্দোনেশিয়ান স্টেইনলেস স্টিলের সিভিডিও।

বাজেটে গৃহীত সিদ্ধান্ত বস্তুত ভারতে শিল্প ধাতুটি আমদানিতে জোয়ার নিয়ে আসে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (এপ্রিল-জুলাই) পণ্যটির আমদানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭৭ শতাংশ বাড়ে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের গড়ের তুলনায় আমদানি বাড়ে ১৫৯ শতাংশ।

চলতি বছরের জুলাইয়ের অবস্থা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মোট আমদানি দাঁড়ায় ৭৭ হাজার ৩৩৭ টনে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ১০৫ টন। সময় ধাতুটি আমদানিতে চীনের হিস্যা ৬৬ শতাংশে উন্নীত হয়। ইন্দোনেশিয়ার হিস্যা দাঁড়ায় ১৫ শতাংশে। অর্থাৎ মোট আমদানির ৮১ শতাংশই আসে দেশ দুটি থেকে। অথচ সিভিডি আরোপের পর ভারতের হিস্যা ছিল ২৭, ইন্দোনেশিয়ার শতাংশ।  

ভারতের বাজারে চীনের ঊর্ধ্বমুখী রফতানিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশটি স্টেইনলেস স্টিলের সবচেয়ে বড় উৎপাদক রফতানিকারক। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বৃদ্ধি আশঙ্কাজনক। চীনের বিনিয়োগের কারণে দেশটিতে গত দুই থেকে তিন বছরে বড় আকারের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫৫ লাখ টন, যা ভারতের চেয়ে বেশি। ফলে স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনে দেশটি ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন