শনিবার | নভেম্বর ২৭, ২০২১ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক খবর

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

জলবায়ু পরিবর্তনে চরম ঝুঁকির তালিকায় নেই বাংলাদেশ

বণিক বার্তা অনলাইন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এতে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক সমস্যা, বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং একটি দেশ অন্য দেশের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে পারে বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেমন হবে তা উঠে এসেছে। এতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। ওই প্রতিবেদনে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ চরম ঝুঁকিতে থাকা ১১টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তালিকায় নেই বাংলাদেশের নাম।

বৃহস্পতিবার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি মার্কিন ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে। প্রথমবারের মত গোয়েন্দা পূর্বাভাসে উঠে আসে ২০৪০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কতটুকু বিঘ্নিত হতে পারে বা সেটি কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে সে সম্পর্কে বলা হয়। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের যোগ দেয়ার আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলো।

২৭ পাতার এ প্রতিবেদনটি দেশটির ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন যেটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, সব দেশই তাদের অর্থনীতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা চালাবে। বিশটির বেশি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানি আয়ের উপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো ১১টি দেশ ও ২টি অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছে দেশের জ্বালানি, খাদ্য, পানি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। দেশগুলি তীব্রভাবে অভ্যন্তরিণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ সংকট, অতি খরা বা অতিবন্যার কবলে পড়বে এ দেশগুলো। যে সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা তাদের নেই।

ঝুঁকিতে থাকা ১১টি দেশের মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, এবং দক্ষিণ কোরিয়া। মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস ও নিকরাগুয়া। বাকি দুটি দেশ ইরাক ও কলম্বিয়া। তবে মধ্য আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট কিছু দেশও এই ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। জলবায়ুর প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থার কারণে ব্যপকভাবে বাড়তে পারে শরণার্থী সমস্যা। যেটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে মানবিক চাহিদা বৃদ্ধি করবে।

জলবায়ু  পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরুর দেশগুলোর বরফ গলে যাবে। এতে মানুষের যাতায়াতের জন্য আরো বেশি সুযোগ তৈরি হবে। জাহাজ চলাচলে নতুন রুট তৈরি হবে। মৎস্য আহরণের নতুন উৎস্য তৈরি হবে। যেটি সামরিক উপস্থিতির ঝুঁকিও তৈরি করবে।

পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সমস্যার কারণ ঘটাবে জলবায়ু পরিবর্তন। মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার প্রায় ৬০ শতাংশ ভূভাগের পানি আন্তঃসীমান্ত উৎস হতে আসে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির হিস্যা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ চলে আসছে। চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সমস্যা তৈরি করতে পারে মেকং নদী অঞ্চল।

ঝুঁকির অন্য উৎস হচ্ছে, কিছু দেশ এককভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভূ-প্রকৌশল বিদ্যার ব্যবহার করতে চাইবে। এসব ক্ষেত্রে কোনো দেশের এককভাবে সফল হওয়ার সম্ভবনা কম। এ বিষয়ে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষকরা কাজ করছেন। তবে এ বিষয়ে নীতিমালা আছে সামান্যই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যাই হোক, সেটি পরস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মোকাবেলা করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে যুগান্তকারী কোনো আবিষ্কার বা উদ্ভাবনের পাশাপাশি যেকোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে।

এ প্রতিবেদন একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, জলবায়ু এখন নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি চলমান সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে।

সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড সিকিউরিটির পরিচালক ইরিন সিকোরস্কি বলেন, সরকারগুলো সবসময় বলে আসছে জলবায়ু সমস্যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। যা আগে কখনো এতটা ছিল না। অন্য নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর সঙ্গে জলবায়ুর প্রভাবজনিত ঝুঁকি মোটেই আলাদা নয়। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেশটির ২০৪০ সাল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করেছে। তবে, এ প্রতিবেদন কতটুকু কাজে লাগাতে সক্ষম হবে নীতিনির্ধারকরা সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন