রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

খবর

ডিসেম্বরের মধ্যে ৫-৬ কোটি মানুষের টিকা সম্পন্ন হবে: সালমান এফ রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের পাঁচ থেকে ছয় কোটি মানুষ টিকার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। গতকাল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলেন।

গতকাল বিডা কার্যালয়ের মাল্টি পারপাস হলে শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কলকারখানা, শিল্প বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বিত পরিদর্শন পর্যবেক্ষণ টিমের ওই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালমান ফজলুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, ডাইফের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

সালমান এফ রহমান বলেন, কভিডকে সরকার যেভাবে মোকাবেলা করেছে, সেটা উল্লেখযোগ্য। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় আসবে। গতকালই স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় আমাকে বলছিলেন যে আমাদের ১৬ কোটির মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় কোটি মানুষের টিকা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কভিডে মারা গেছেন ২৭ হাজার মানুষ। ভারতের জনসংখ্যা আমাদের সাত গুণ। ওখানে মারা গেছে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা আমাদের দ্বিগুণ। সেখানেও মারা গেছেন সাত লাখের বেশি মানুষ। আমরা যেভাবে কভিডকে মোকাবেলা করেছি, আমরা কি সফল না? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় যদি কিছুই না করে, তাহলে সাফল্য কীভাবে ধরা দিল? টিকা কিন্তু আমরা বেসরকারি খাতে দিইনি। টিকা কর্মসূচি শতভাগ সরকারি ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে। অন্যান্য দেশে সরকারি-বেসরকারি খাত পাশাপাশি করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য কলকারখানায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দেশের শিল্প-কলকারখানাগুলোয় বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে শিল্প-কলকারখানাগুলোর অবকাঠামোগত এবং অগ্নিদুর্ঘটনা অন্যান্য দুর্ঘটনা নিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিডার নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে অতিদ্রুত সময়ের মাধ্যমে তিনটি উপকমিটি তৈরি এবং এর মাধ্যমে চেক লিস্ট তৈরিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের কলকারখানার সুরক্ষা সেল থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের সঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু মালিকপক্ষকে দায়ী করা হয়। দুর্ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আস্তে আস্তে কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখা যায় না। তাই সমস্যারও সমাধান হয় না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কলকারখানাগুলোর মান উন্নয়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন অগ্রাধিকারভিত্তিক কলকারখানার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পোশাক শিল্প রফতানিমুখী শিল্প ব্যতীত বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ৪৬ হাজার শিল্প-কারখানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার শিল্প-কলকারখানা পরিদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর জেলার জন্য মোট ২৭টি পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন