রবিবার | নভেম্বর ২৮, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

ইভি নির্মাতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে নিকেল সংকট

বণিক বার্তা ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার সরোয়াকো খনি থেকে পরিশোধনাগারে নেয়া হচ্ছে অপরিশোধিত নিকেল আকরিক ছবি: রয়টার্স

বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যাটারি তৈরির অপরিহার্য উপাদান নিকেল। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে হাই-গ্রেড নিকেলের বৈশ্বিক চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাবে। এতে দেখা দেবে তীব্র সংকট। এমন তথ্য জানিয়েছে জ্বালানি গবেষণা বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে নিকেলের বৈশ্বিক সরবরাহ প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। কিন্তু ধারায় বিঘ্ন ঘটাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার জোর প্রয়াস চলছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়ছে সৌর, জল বায়ুর গ্রহযোগ্যতা। পেট্রল ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বাজার দখল করছে বৈদ্যুতিক গাড়ি। অন্যদিকে মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে দ্রুত প্রসার ঘটছে অবকাঠামো নির্মাণ শিল্প উৎপাদন খাতে। এসব খাতে ইস্পাতের ব্যবহার বাড়ছে। কাঁচামাল হিসেবে বাড়ছে নিকেলে চাহিদা। চাহিদার উল্লম্ফনে দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে সংকট।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছর বিশ্ববাজারে ২৫ লাখ টন নিকেলের চাহিদা রয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে চাহিদা বেড়ে ৩৪ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। বিপরীতে নিম্নমুখী থাকবে সরবরাহ। সময় উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ লাখ টনে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হবে তা দ্রুতই বাড়বে। ২০২৬ সালের মধ্যে ধাতুটির বাজারে লাখ ৬০ হাজার টনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অনেক গাড়ি নির্মাতার কাছেই ব্যাটারির অপরিহার্য উপাদান নিকেল। ধাতুটির সরবরাহ সংকট তাদের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণে হয়ে দাঁড়বে। এমন পরিস্থিতির কারণে ধাক্কা খেতে পারে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গাড়ি নির্মাণ খাত। ঘাটতি গাড়ি নির্মাতাদের বিকল্প উপাদানের পাশাপাশি নিকেলের ভূগর্ভস্থ মজুদ অনুসন্ধান বাড়াতে উৎসাহিত করছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস লেই বলেন, নিকেলের সম্ভাব্য সংকট ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় উৎস অনুসন্ধানে উৎসাহিত করছে। তবে এসব উৎস থেকে নিকেল উত্তোলন নিষ্কাশনে রয়েছে পরিবেশগত, সামাজিক সরকারিসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ ঝুঁকি। নিকেলের সংকট প্রকট হতে থাকায় থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে আমাদের প্রত্যাশা, ইভি নির্মাতারা ব্যাটারির জন্য বিকল্প কাঁচামাল খুঁজে বের করবেন। 

স্টেইনলেস ইস্পাত খাতে নিকেলের চাহিদা প্রতি বছর শতাংশ করে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাটারির বাজারে নজিরবিহীন সম্প্রসারণ ঘটছে। চলতি দশক শেষে ব্যাটরি তৈরিতে নিকেলের চাহিদা চার গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিকেলের বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহে ব্যাটারি বাজারের হিস্যা রয়েছে শতাংশ। ২০২৬ সালের মধ্যে হিস্যা বেড়ে ৩১ শতাংশে উন্নীত হবে। ব্যাটারি বাজারে বাড়তে থাকা চাহিদা এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে নিকেলের সরবরাহ চেইনকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলবে। 

এদিকে চাহিদা বাড়তে থাকায় দেশে দেশে উত্তোলন বাড়ানো হচ্ছে।  ভবিষ্যতে ঘাটতির আশঙ্কা থাকলেও বছর নিকেল উত্তোলন শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে মোট ২৪ লাখ ২৭ হাজার ৪০০ টন নিকেল উত্তোলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় উত্তোলন বাড়বে দশমিক শতাংশ। কভিড-১৯-সংক্রান্ত লকডাউন এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে গত বছর উত্তোলন দশমিক শতাংশ কমে ২২ লাখ ৭২ হাজার টনে নেমে গিয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×