রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

টকিজ

চিত্রনাট্য লেখা ক্রিয়েটিভ ও টেকনিক্যাল একটি কাজ

ফিচার প্রতিবেদক

রিকশা গার্ল সিনেমার পোস্টার, নাসিফ ফারুক আমিন

নাসিফ ফারুক আমিন, রিকশা গার্ল সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত সিনেমাটি জার্মানির ২৬তম শ্লিঙ্গেল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এসএলএম সর্বোচ্চ পদক জিতেছে। রিকশা গার্লের চিত্রনাট্য লেখার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখার নানা দিক নিয়ে কথা বললেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

রিকশা গার্ল সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্পটা যদি বলতেন...

আমি ব্যক্তিগতভাবে লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমার ছোট ভাই জাহিন ফারুক আমিন নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অমিতাভ রেজা চৌধুরী মেজবাউর রহমান সুমনের ক্রিয়েটিভ প্রযোজনায় একটা টিভি সিরিজ হয় অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প নামে। জাহিন সিরিজে একটা টিভি ফিকশন বানায়। সিরিজে যারা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল প্রায় সবাই আমার বন্ধু। ফলে প্রজেক্টে সবার সঙ্গে উঠবস হচ্ছিল। আইডিয়া শেয়ার করছিলাম। একই সময়ে জাহিনের কাজটাও চলছিল। ওর চিত্রনাট্য সম্পাদনাসহ অন্যান্য কাজ করছিলাম। তখন অমিতাভ ভাই কথা প্রসঙ্গে একদিন বললেন, প্রযোজক এরিক জে অ্যাডাম অনেকদিন থেকে যোগাযোগ করছেন, মিতালি পারকিন্সের রিকশা গার্ল উপন্যাস থেকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা বানানোর জন্য। প্রযোজক শর্বরী আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা চিত্রনাট্য লিখতে বলেন। সেই চিত্রনাট্য ভালোই লিখেছিলেন শর্বরী। কিন্তু সেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আনতে অমিতাভ ভাই চাইছিলেন আমাদের দেশের কেউ এটার চিত্রনাট্য লিখুক। অমিতাভ ভাই আমাকে লিখতে বললেন। আমি রাজি হলাম।

উপন্যাস থেকে সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরির ক্ষেত্রে কী কী প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে?

প্রথমে গল্পটার স্টোরিলাইন লিখলাম। উপন্যাসের দৈর্ঘ্য একটু কম। এটাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য করতে আরো কিছু ঘটনাপ্রবাহ যুক্ত করার দরকার ছিল। আমি গল্পের সিনেমাটিক ট্রিটমেন্ট দিয়ে একটা খসড়া তৈরি করলাম। এরপর প্রথম অংশের চিত্রনাট্য লিখে প্রোডিউসার পরিচালককে দেখালাম। তারা পছন্দ করলেন। এরপর আমি লেখা শুরু করলাম। এর পরও অনেক খসড়া লেখা হয়েছে। অনেক কাটছাঁট হয়েছে। আসলে চিত্রনাট্য এক বসায় লেখা যায় না। এর সঙ্গে লেগে থাকতে হয়।

আয়নাবাজি দিয়ে অমিতাভ রেজা দেশের দর্শকদের প্রত্যাশা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে রিকশা গার্ল দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবে বলে মনে করেন?

রিকশা গার্ল একটি সোস্যাল ড্রামা। এটা আয়নাবাজির মতো থ্রিলার জনরাঁর সিনেমা না। একটা শান্ত, স্নিগ্ধ সিনেমা। মানুষ যেমন রোমাঞ্চিত হতে চান, সেভাবে বাস্তবধর্মী গল্পগুলোও দেখতে চান। ফলে দর্শক কীভাবে নেবেন, তাদের প্রত্যাশাই বা কী থাকবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। দেখা যাক দর্শক কীভাবে নেন। 

বাংলা সিনেমায় ইদানীং চিরাচরিত গল্পের বাইরে গিয়ে ভিন্ন স্বাদের গল্প তুলে আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দর্শক বিষয়টার সঙ্গে কতটা অভ্যস্ত?

ওটিটি প্লাটফর্মের ফলে আমাদের দর্শক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ এসেছে। এখন দর্শক সব রকমের গল্প দেখছে। এখন দর্শক তৈরি হচ্ছে। ফিল্মমেকারও তৈরি হচ্ছে। ফলে আমার মনে হয় দর্শক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার এটাই একটা ভালো সময়।

এখন আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

বেশ কয়েকটি কাজ হাতে আছে। পাশাপাশি আমি তো জবও করি। এশিয়াটিকের একটি প্রতিষ্ঠান, গুড কোম্পানি লিমিটেডের সিনিয়র কনটেন্ট সুপারভাইজার হিসেবে আছি। দেশ-বিদেশের সব ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য কনটেন্ট প্রোডিউস করি। শংখ দাসগুপ্তের পরিচালনায় হইচইয়ে বলি নামে একটি ওয়েব সিরিজ আসছে। যেটায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। ওটার গল্প আমার লেখা। চিত্রনাট্য লিখেছে আমার ছোট ভাই জাহিন ফারুক আমিন। চরকিতে প্রচার হওয়া ঊনলৌকিক সিরিজের একটা গল্প মিসেস প্রহেলিকা চিত্রনাট্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এছাড়া আরো কিছু প্রজেক্ট চলমান। এগুলো ধীরে ধীরে জানা যাবে।

বাংলাদেশের চিত্রনাট্য লেখকদের চ্যালেঞ্জ কী? চ্যালেঞ্জ উতরানোর উপায়ইবা কী?

লেখাটা খুব কঠিন কাজ। আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি এখন ভিজ্যুয়াল রাইটিংয়ের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে। আমরা পড়ার চেয়ে দেখতে পছন্দ করছি। সময়ে যারা লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছে তারা চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে এগিয়ে। চিত্রনাট্য লেখা কিন্তু সাহিত্য লেখা না। একটা ঘটনা বা দৃশ্যকল্প সাহিত্য লেখক চিত্রনাট্য লেখক দুটি অ্যাঙ্গেল থেকে লিখেন। চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে সিনেমাটা কী তা জানতে হয়। ফ্রেমিং জানতে হয়। এডিট কীভাবে হয় তা জানতে হয়। চিত্রনাট্য লেখার আলাদা একটা প্রসেস আছে, একটা ফরমেট আছে। এটা লেখার সময় সময়, লোকেশন, বাজেট ইত্যাদি মাথায় রাখতে হয়। সঠিক প্রসেসে একটা চিত্রনাট্য লেখা হলে ডিরেক্টর পড়েই তাকে কী কী করতে হবে বুঝতে পারেন। চিত্রনাট্য লেখা একই সঙ্গে যেমন ক্রিয়েটিভ কাজ, তেমন টেকনিক্যাল কাজও। ফলে চিত্রনাট্য লেখার জন্য যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়, সারাক্ষণ লেখার সঙ্গে বসে থাকতে পারার ক্ষমতা। এখন যেহেতু অনেক কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্টও তৈরি হচ্ছে, ফলে চিত্রনাট্যকারদের সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন