রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শেষ পাতা

বিশ্ব খাদ্য দিবসে প্রধানমন্ত্রী

কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষিজমি যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা উৎপাদন করব। উন্নয়ন করে যাব। তবে সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষিজমি সংরক্ষণ করেই করতে হবে। খাদ্যের মানটাও যাতে ঠিক থাকে। এছাড়া কৃষিতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, যথাযথভাবে বাজারজাতের ব্যবস্থাও করতে হবে। খাদ্যের অপচয় কমিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী . মো. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মত্স্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রেজাউল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটাই বাস্তব। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশী দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমার কথা ছিল; আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। অন্তত ৫০ বছরের মজুদ থাকবে। তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে, সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

কৃষিতে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশী কৃষিবিজ্ঞানী গবেষকদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে। অপচয় যেন না হয়। যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে, সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্যটা থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে, সেটাও কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কিনা; সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার। খাদ্যনিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশা আল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব। হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করব। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্ব খাদ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য—‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালো উৎপাদনই ভালো পুষ্টি, ভালো পরিবেশই উন্নত জীবন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর যেন কখনো দুর্ভিক্ষ না হতে পারে, আর কেউ যেন চক্রান্ত করে দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে, সেদিকে বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা খাদ্য চাহিদা ইনশা আল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব। আল্লাহর রহমতে খাবারে বাংলাদেশে আর কোনো অভাব থাকবে না। তবে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।

সময় কৃষি খাতে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বাধার মুখেও নতি স্বীকার না করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাদের পরামর্শ দিয়েছে, এটায় ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমি বললাম, পৃথিবীর সব দেশ দেয়, আমরা দেব না কেন? আমার দেশের মানুষের খাদ্যটা আগে। তাদের প্রথম চাহিদাটা হচ্ছে খাদ্য। আমাদের যদি কেউ ব্যাপারে ঋণ না দেয়, তখন আমরা নিজের পয়সায় দেব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারী শুরুর দিকেই আমি আহ্বান জানিয়েছি, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সারা বিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন খাদ্যের অভাবে আর কখনো না ভুগি। আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই উত্তরবঙ্গ মঙ্গামুক্ত হয়। মঙ্গামুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনো যাতে আর দুর্ভিক্ষ হতে না পারে। বীজ আমরা উৎপাদন করব, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকব না। বেসরকারি খাত বীজ উৎপাদন করবে। সরকারিভাবে বিএডিসি উৎপাদন করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ দিয়ে নির্মিত জাতির পিতার একটি প্রতিকৃতি বিএআরসি কর্তৃক প্রকাশিত ১০০ ইয়ারস অব এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন