সোমবার | নভেম্বর ২৯, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দেশের খবর

সড়ক দুর্ঘটনা

ত্রিশালে একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ ও মিরসরাই

ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত বাস ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

আগামী শুক্রবার আব্দুল্লাহর খতনার দিন ধার্য ছিল। খতনা আর করানো হলো না আব্দুল্লাহর। গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা, বোন নানাসহ পৃথিবী থেকে বিদায় নিল শিশু আব্দুল্লাহ। পরিবারের সদস্যদের আশা ছিল, আব্দুল্লাহর খতনা করিয়ে এলাকাবাসীকে দাওয়াত করবেন। কিন্তু কপালে সইল না। পরিবারের বাবা-মা, ছোট বোন নানাসহ আব্দুল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। এখন বাড়ি গিয়ে বড় ভাইকে কী জবাব দেব? কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের চেলেরঘাটে ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ফজলুল হকের চাচা আব্দুর রশিদ। দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের পাঁচজনই ওই পরিবারের সদস্য।

আব্দুর রশিদ জানান, নিহত ফজলুল হক তার আপন বড় ভাই কমর উদ্দিনের ছেলে। ভাতিজার পরিবারসহ তিনি ঢাকায় সবজির ব্যবসা করেন। সবাই একসঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই তারা বাড়িতে যান। করোনার কারণে গত কোরবানির ঈদে বাড়ি যাননি। ১০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। আর নিহত আজমিনা () প্রথম শ্রেণীতে পড়ত।

তিনি আরো জানান, ভাতিজা ফজলুলের বড় শখ ছিল, গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ছেলের খতনা করিয়ে আত্মীয়-স্বজন এলাকাবাসীকে দাওয়াত করে খাওয়াবেন। এটা আর হয়ে উঠল না। গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চেলেরঘাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে শেরপুরগামী রহিম পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা বালিবাহী ড্রাম ট্রাককে ওভারটেক করতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির পেছনের অংশ ট্রাকের ভেতর ঢুকে পড়ে। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সময় ঘটনাস্থলেই পাঁচ যাত্রী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন আরো দুজন মারা যান। নিহতরা হলেন ফুলপুর উপজেলার ছনধরা গ্রামের ফজলুল হক ওরফে হুজু (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা (২৮), ছেলে আব্দুল্লাহ (১০) মেয়ে আজমিনা () তার শ্বশুর মো. নজরুল ইসলাম (৬০) বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুটি বাসের প্রতিযোগিতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সুলতান মো. একরামুল হক। তিনি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি গোপালপুর গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় মিঠাছড়া বাজারের উত্তর পাশে মুচিপোল সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক একেএম শরফুদ্দীন বলেন, গতকাল দুপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় একরামুল হক নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×