রবিবার | ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

এয়ারলাইনস ও শিপিং খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ৩ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী করা হয় এয়ারলাইনস ও শিপিং শিল্পকে ছবি: এপি

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এয়ারলাইনস শিপিং খাত। এজন্য দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পদক্ষেপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মহাসাচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গ্লোবাল সাসটেইনেবল ট্রান্সপোর্ট কনফারেন্সে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, এয়ারলাইনস শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এজন্য জলবায়ু সংকট নিতে তাদের নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বর্তমান প্রচেষ্টাগুলো অপ্রতুল এবং এটি বিশ্বজুড়ে উষ্ণতার বিপর্যয় ডেকে আনবে।

শিপিং এভিয়েশন শিল্প থেকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) পদক্ষেপ নিতে দেশগুলোকে উৎসাহিত করছে। তবে বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রায় শতাংশের জন্য দায়ী এয়ারলাইনস শিপিং শিল্প। উভয় শিল্পই কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো উচ্চ ঘনত্বের জ্বালানি ব্যবহার করে এবং তুলনামূলক অপরিষ্কার ভারী তেল দিয়ে চলে জাহাজগুলো।

গুতেরেস দৃঢ়প্রত্যয়ী যে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা থেকে শিল্পগুলোকে বাইরে রাখা উচিত নয়। এক্ষেত্রে জরুরি বিষয় হিসেবে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরো উচ্চাভিলাষী বিশ্বাসযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা আইসিএও আইএমও উভয় সংস্থার জন্য জরুরি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য নিঃসরণ জাহাজকে বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য করার জন্য এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিঃসরণ শূন্যে নামানোর বিষয়টিতে প্রধান অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর অবশ্যই টেকসই জ্বালানির ব্যবহার শুরু করা এবং চলতি শতকের মাঝামাঝিতে যাত্রীপ্রতি নিঃসরণ ৬৫ শতাংশ কমিয়ে আনা উচিত।

পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই উড়োজাহাজ পরিবহন সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন শিল্প থেকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে। ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট থিংকট্যাংকের শিপিং বিষয়ক পরিচালক ফেইগ আব্বাশভ বলেন, অ্যান্তোনিও গুতেরেস ঠিক বলেছেন। কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলায় শিপিং এভিয়েশন শিল্প পিছিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের আইসিএও আইএমওর ওপর নির্ভর করা বন্ধ করতে হবে। দাবি করা উচিত যে, সব নিঃসরণের জন্য নির্দিষ্ট দেশ দায়বদ্ধ।

তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণে দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলো দেখিয়েছে যে, কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে বাধ্য করা যায়। সম্প্রতি ইইউ কার্বন নিঃসরণের জন্য শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর আরোপের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি দেশেরই এখন পথে হাঁটার সময় এসেছে।

আইএমওর একজন মুখপাত্র বলেন, আইএমও ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য জ্বালানি নিয়ে উদ্যোগ নেয়। কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলায় আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এবং এমন পদক্ষেপে কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন