বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৮, ২০২১ | ১২ কার্তিক ১৪২৮

আন্তর্জাতিক খবর

নির্বাচন সামনে রেখে সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

বণিক বার্তা অনলাইন

জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। আগামী ৩১ অক্টোবর ভোটের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন দেশটির নাগরিকরা।

নিক্কেই এশিয়া ও জাপানিজ টাইমসের খবরে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

নিক্কেই এশিয়া জানায়, এটি হবে কভিড-১৯ মহামারীর পর দেশটির প্রথম কোনো নির্বাচন। এ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব দেবেন মাত্র দশদিন আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ফুমিও কিশিদা। ক্ষমতাসীন এলডিপির বিপক্ষে নির্বাচনে লড়বে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক দল (সিডিপিজে)।

সংসদ ভেঙে দিয়ে কিশিদা বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তার রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জনগণের অবস্থান স্পষ্ট করে বুঝতে চান।

এর আগে সর্বশেষ জাপানের নিম্নকক্ষ নির্বাচন হয় ২০১৭ সালে। তখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান ক্ষমতাসীন এলডিপির নেতা শিনজো আবে। ২০০৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর একবছর ক্ষমতায় থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন আবে। যদিও সে সময় তার মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।

এরপর ২০১২ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ছিলেন ২০২১ সাল পর্যন্ত। এবারও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার আগে দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড করেন। যদিও শেষ দিকে করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতা ও সংবিধান সংশোধনের গুঞ্জন তার জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছিল।

৩১ অক্টোবরের নির্বাচনে দেশটির ৪৬৫ জন আইন প্রণেতাকে নির্বাচিত করা হবে। মূলত এই নির্বাচনই ঠিক করে দেয় দেশটির সরকার কোন রাজনৈতিক দল পরিচালনা করবে। তাই বলা হয় এটিই পরক্ষোভাবে জাপানের সরকার নির্বাচন।

নির্বাচনে ফুমিও কিশিদার রাজনৈতিক দল এলডিপির সঙ্গে জোটে রয়েছে কোমো পার্টি। ২০১৭ সালের সেই নির্বাচনে এই জোট ৩১০ টি বা দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে শক্তিশালী সরকার গঠন করে।

নির্বাচনে এলডিপির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে সিডিপিজে। জাপানে ৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১২ সালে সিডিপিজের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন হয়। পরবর্তীতে দেশটির ক্ষমতায় আসে শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন এলডিপি।

এবারের ভোটে দুই শিবিরেরই ইশতেহার কাছাকাছি। দুপক্ষই বলছে, নির্বাচনে জিতলে সম্পদের সুষম বন্টন এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করার উপর জোর দেবেন তারা। তবে, সিডিপিজে সমকামী বিয়ে এবং দম্পতিদের পরিচয়সহ কিছু বিষয়ে উদার নীতির পক্ষে। অন্যদিকে এলডিপি রক্ষণশীল এবং সমকামী বিয়ের বিপক্ষে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যেই জিতুক এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ করোনা মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধার। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, ধনী দেশগুলো করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবের কারণে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন