সোমবার | নভেম্বর ২৯, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শেষ পাতা

নেপালের বিপক্ষে লাল কার্ডে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক

ড্র করলে হবে না, ফাইনাল খেলতে হলে জিততেই হবেএমন সমীকরণে নেপালের বিরুদ্ধে মালদ্বীপের রাজধানী মালে স্টেডিয়ামের মাঠে নামে টিম বাংলাদেশ। শুরুতেই গোলের দেখাও পান জামাল ভূঁইয়ারা। তবু স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হতে হলো লাল-সবুজের দলকে। শুধু কি খেলোয়াড়রাই? ১৬ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সুযোগ হারানোর কষ্টের আগুনে পুড়ছেন বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রীড়ামোদী দর্শকও। খেলার ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে সমতায় ফিরলে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় নেপাল। বাকি সময় আর বল জালে না জড়ালে - গোলে ড্র নিয়েই ফাইনালের টিকিট পায় তারা।

একাদশে মোট চারটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ অস্কার ব্রুজেন। -- ফরম্যাটে মাঠে নামে বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞা শেষে ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ দলে ফেরেন। সাফে প্রথমবারের মতো ম্যাচ খেলার সুযোগ দেয়া হয় টুটুল হোসেন বাদশাকে। মতিন মিয়ার পরিবর্তে দলে ঢোকেন সুমন। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার পর মূল একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তবে বদলি হিসেবে নামার সুযোগ পেয়েছেন। আক্রমণভাগে সুমনের সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

শুরুটা দারুণ ছিল বাংলাদেশের। খেলার মাত্র মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিকে হেড দিয়ে নেপালের জালে বল জড়িয়ে দেন সুমন রেজা। এতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খোলেন তিনি। ফলে স্বপ্নযাত্রার পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর একের পর এক আক্রমণ সামাল দিতে হয়েছে তপু বর্মণদের। একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন নেপালি স্ট্রাইকার নবযুগ শ্রেষ্ঠা, সুজালরা। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৬৮তম স্থানে থাকা দলকে ঠেকাতে মোট ২০টি ফাউল করে বাংলাদেশ। বিপরীতে নেপালের সংখ্যা ১২।

নেপালের খেলোয়াড়রা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল শোধে আরো মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেও পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশও। খেলার ৫৫ মিনিটে বলতে গেলে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন সুমন রেজা। গোলকিপার কিরণ চেমজংকে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন চেমজং। ৬৩ মিনিটে আরো একটি সুযোগ মিস করে অস্কার ব্রুজেনের শিষ্যরা। সাদ উদ্দিনের ফ্রি কিকে ইব্রাহিম হেড করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বল গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে আরো একবার কপাল পোড়ে বাংলাদেশের।

তবে ফাইনালের স্বপ্ন বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় মূলত ৭৯ মিনিটে। রাকিবের ভুল পাসের খেসারত দিতে হয় গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে। মাঝমাঠ থেকে ব্যাকপাস দিলে ডি বক্সের বাইরে আসতে হয় তাকে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কভার করতে গেলে বল লেগে যায় জিকোর হাতে।

রেফারি আনিসুর রহমান জিকোকে লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। কোচ দ্রুত বিপলুকে উঠিয়ে নিয়ে গোলকিপার হিসেবে মাঠে নামান আশরাফুল ইসলাম রানাকে। অবস্থায় মাত্র মিনিট গোলপোস্ট সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হন বদলি গোলকিপার রানা।

৮৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি বক্সে পড়ে যান নেপালি ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্টা। ডি বক্সের মধ্যে বিস্টা হেড করতে গেলে বাধা দিতে যান সাদ উদ্দিন। সময় বিস্টা পড়ে যান। তবে সেটা সাদের ধাক্কায় নাকি এমনিতেই সেটি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। উজবেকিস্তানের রেফারির দেয়া পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই সমতায় ফেরে নেপাল।

পেনাল্টি থেকে অঞ্জন বিস্টা গোল পরিশোধ করলে ফাইনালের রাস্তা খুলে যায় নেপালের। অতিরিক্ত মিনিটে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি দুই দল। লিগ পদ্ধতির টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ বাংলাদেশের সাফ অভিযান শেষ হয় পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে থেকে।

২০০৫ সালের পর আর কোনো ফাইনালের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে হেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল স্বাগতিকরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×