শনিবার | অক্টোবর ২৩, ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

প্রথম পাতা

জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি বলেন, আইন প্রশাসন কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী উন্নয়ন প্রশাসন গড়ে তুলে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আপনারা নিবেদিত থাকবেন, জনগণের পাশে থাকবেন মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন

গতকাল বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ১১৯ ১২০তম আইন প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি

দক্ষ দূরদর্শী সিভিল সার্ভিস দেশের এগিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে আসি পাঁচ বছরের স্বল্প সময়ের জন্য আপনারা দায়িত্বে থাকেন দীর্ঘ সময়ের জন্য তাই একটা আদর্শ নিয়ে চলতে হবে লক্ষ্য স্থির রেখে সামনে এগোতে হবে

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির প্রশিক্ষণের কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে উল্লেখ করে সরকাপ্রধান বলেন, আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নেব কিন্তু চলব ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিজ্ঞান অর্জন করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিসিএস প্রশাসন একাডেমিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং ১৫ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্টাডি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জ্ঞানচর্চার অনুশীলন অধিকতর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেশেই নিতে পারেন সে বিবেচনায় আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি

করোনা মহামারীতে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে আইনের সেবা দেয়া, বিচার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে কারণ আমি তার ভুক্তভোগী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেই আইনটি বাতিল করে দিয়ে খুনিদের বিচার করে এবং বিচারের রায়ও কার্যকর করে

জাতির পিতার সময়ই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় ১৯৭৫-এর পর সেটাও বাতিল করে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের এবং রাজাকার, আলবদর, যারা বাহিনীপ্রধান তাদের ক্ষমতায় আনা হয়েছিল খুনিদেরও জনগণের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসানো হয় আর যুদ্ধাপরাধী যারা গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ করেছিল তাদেরও ক্ষমতায় আনা হয়েছিল এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, খুনিদের বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি কাজেই সেই বিচারের বাণী যেন আর নিভৃতে না কাঁদে, মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায় এবং মানুষ যেন প্রশাসনের সেবাটা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম বক্তব্য রাখেন বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির রেক্টর মোমিনুর রশিদ আমিন স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব . আহমদ কায়কাউসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন