রবিবার | অক্টোবর ২৪, ২০২১ | ৯ কার্তিক ১৪২৮

খবর

ই-কমার্স কোম্পানি এসপিসির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এতে অনুমোদনহীন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আল আমিন তার স্ত্রী পরিচালক সারমীন আক্তার এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. ইসহাক। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) ইউনিট ঢাকা মহানগর পুলিশের কলাবাগান থানায় গত মাসে মামলাটি দায়ের করে।

অভিযুক্তরা -কমার্স ব্যবসার আড়ালে অনুমোদনহীন এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে এজাহারে উল্লেখ করে সিআইডি। এতে বলা হয়, সাধারণ মানুষকে অধিক কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস নামে মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করে তারা।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেডের মাধ্যমে গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়। এসব লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ২২ কোটি লাখ টাকা জমা করা হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে মোট কোটি লাখ টাকা।

অভিযুক্ত আল আমিন গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া টাকা প্রতিষ্ঠানটির হিসাব থেকে প্রতারণামূলকভাবে সরিয়েছেন। এতে সহযোগিতা করেছেন অভিযুক্ত সারমীন আক্তার মো. ইসহাক। পরে আল আমিন তার নামে ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি গাড়ি ক্রয় করেন। এছাড়া সিটি ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ৩৫ লাখ টাকা তার স্ত্রী সারমীন আক্তারের নামের হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি আরো জানতে পারে, অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত একাধিক লোকের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীন এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষকে লোভে ফেলতে তারা নানা ছক এঁকেছে। নতুন গ্রাহকদের অ্যাপে আইডি খুলে দিলে রেফার জেনারেশন বোনাস দেয়া। এছাড়া একটি আইডির ডাউনওয়ার্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক আইডি হলে বিদেশে ভ্রমণ, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল, গাড়ি, ফ্ল্যাট কোম্পানির প্রফিটের একটি অংশ দেয়ার কথাও বলা হতো।

গত বছর এমএলএম ব্যবসা প্রতারণার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ছয়জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এসপিসি ১১ মাসে ২২ লাখ ২৫ হাজার জনকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে তারা হাতিয়ে নিয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা।

এরপর তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আল আমিনসহ ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে জামিনে বের হয়ে ফের এসপিসির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। কার্যক্রম গতিশীল করতে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত করেন। বিষয়টি প্রচার করে যুবকদের আকৃষ্ট করতে থাকেন। কিন্তু দুই মাস না যেতেই চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন মাশরাফি। এর কারণ হিসেবে মাশরাফি জানান, কোম্পানিটির ব্যবসার ধরন সম্পর্কে প্রথমে ভুল জানানো হয়েছিল তাকে।

এসপিসির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা শাহিন বণিক বার্তাকে জানান, অভিযোগ ওঠার পর গ্রাহকদের টাকায় কেনা গাড়িগুলো কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয় এড়িয়ে যান।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছি। প্রাথমিকভাবে কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছি, এটি বাড়তে পারে। আত্মসাত্কৃত টাকার অংক বেশি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তাদের ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ অনেক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন