বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৮, ২০২১ | ১২ কার্তিক ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

বেনাপোল দিয়ে রেলপথে পণ্য আমদানি বাড়ছে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি. যশোর

বেনাপোল দিয়ে রেলপথে বেড়েছে ভারত থেকে পণ্য আমদানি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল রেলপথে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে লাখ ৪০ হাজার ৬৫৯ টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। সময় রেল ভাড়া বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছিল লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টনের মতো, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

আর চলতি অর্থবছরের আগস্টে বেনাপোল দিয়ে রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ২২ হাজার ৮৫৫ টন। সময় খাত থেকে রেলের রাজস্ব এসেছে কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৯ টাকা। এর আগে জুলাইয়ে পণ্য আমদানি হয় ৩৯ হাজার ৪৯৯ টন। ওই মাসে রেলের রাজস্ব আসে কোটি ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯ টাকা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থলপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বনগাঁ কালিতলা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের কাছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিরিয়ালের নামে ট্রাকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করত। করোনার শুরুতে ধরনের প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের জুন থেকে সরকার রেলে সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাণিজ্যের অনুমতি দেয়।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, খরচ সাশ্রয় আর নিরাপদ হওয়ায় দিন দিন ব্যবসায়ীরা রেলপথে বাণিজ্যে ঝুঁকতে থাকেন। আগে মাসে চার থেকে পাঁচটি ওয়াগনে পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং প্যার্সেল ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব আয়ে লাভবান হচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় বছর আমদানি বেড়েছে। পাশাপাশি রেল খাতে সরকারের চার গুণ বেশি রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।

রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশন মাস্টার মো. শাহিদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথেও পণ্য আমদানি হচ্ছে। তবে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সম্প্রসারণের কাজ। এসব কাজ শেষ হলে পথে বাণিজ্য আরো বাড়বে। আগে রেলপথে পাথর জিপসাম-জাতীয় পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে গার্মেন্ট, কেমিক্যাল, খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য আসছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন