বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৮, ২০২১ | ১২ কার্তিক ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জলবায়ু পরিবর্তন ও অপুষ্টি মোকাবেলা

কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দাতাগোষ্ঠীর

বণিক বার্তা ডেস্ক

কভিড-১৯ মহামারী কয়েক কোটি মানুষকে নতুন করে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়েছে লাখ লাখ শিশু। এমন পরিস্থিতিতে অপুষ্টি মোকাবেলায় আগামী পাঁচ বছরে ৯২ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশন চলাকালে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জড়ো হওয়ার সময় বেশ কয়েকটি দাতা সংস্থা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের ঘোষণাও তারই একটি।

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ৩০৩০ নামে পরিচিত নয়টি ফাউন্ডেশনের একটি জোট জানিয়েছে, তারা বিশ্বের অন্তত ৩০ শতাংশ ভূমি সমুদ্র রক্ষায় ২০৩০ সালের মধ্যে যৌথভাবে ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করবে। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিস, ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক ওয়াইস ফাউন্ডেশন এবং অন্যদের দেয়া প্রতিশ্রুতিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্যে গত সপ্তাহে ঘোষিত অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যামাজনের কার্বন নিঃসরণ নিয়ে সমালোচনার পর গত বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় হাজার কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বেজোস। সহায়তা সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ।

এদিকে সম্প্রতি জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার সরবরাহ বাড়াতে সংস্থাটি আরো কোটি লাখ ডলার ব্যয় করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাতাগোষ্ঠীগুলো তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি অধিক মনোযোগ পেতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়কে বেছে নিয়েছে। কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পালোমা রাগো বলেন, সময় আপনার বিশ্বজুড়ে শ্রোতা রয়েছেন। অন্যথায় দেশগুলোর কারণে শ্রোতারা অনেক বেশি বিভক্ত।

ফাউন্ডেশনগুলোর জন্য সাধারণ পরিষদ আরো অনেক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতিসংঘের এজেন্ডাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়েছিলেন, এজেন্ডাগুলো হাতে নেয়া এবং সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আরো পরীক্ষা করা উচিত। কারণ তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না।

গেটস ফাউন্ডেশনের ৯২ কোটি ২০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি এখন পর্যন্ত দাতা সংগঠনটির সবচেয়ে বড় পুষ্টিবিষয়ক অঙ্গীকার। প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি অর্থ দুর্বল মাতৃ পুষ্টি এবং খাদ্য সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পুষ্টির মান উন্নত করে সাধারণ খাবারে ভিটামিন খনিজ যোগ করার ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, মনোযোগ পুষ্টি নয় বরং খাবারের দিকে হওয়া উচিত।

অন্যদিকে মেলিন্ডা ফ্রেন্স গেটস মার্কিন কংগ্রেসকে এমন একটি আইন করার বিষয়ে চাপ দিচ্ছে, যা সব কর্মীর বেতনভুক্ত পারিবারিক ছুটির নিশ্চয়তা দেয়। ফেন্স গেটসের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিভোটাল ভেঞ্চারসের একজন মুখপাত্র বলেন, সপ্তাহে তিনি ওয়াশিংটনে নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের কার্যালয় আরো বলেছিল, কভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আলোচনা করার জন্য ফ্রেন্স গেটস কমলা হ্যারিসের দেখা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন