বুধবার | অক্টোবর ২০, ২০২১ | ৫ কার্তিক ১৪২৮

আন্তর্জাতিক খবর

তালেবান নেতাদের বিরোধ কতটা গভীর ?

বণিক বার্তা অনলাইন

তালেবান নেতাদের বিভক্তির খবরে তাদের একতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটির ঐক্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় যখন মাসের শুরুর দিকে উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার জন পরিসরে অনুপস্থিত হন। এসময় তার মৃত্যুর খবরও ছড়ায়।

পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্য নিয়ে তাকে আবার জনসম্মুখে আসতে দেখা যায়। দেখে পরিস্কার বোঝা যায়, লিখিত একটি বক্তব্য তিনি শুধু পড়ছেন। অনেকে মনে করেন, তাকে জোরপূর্বক বিবৃতিটি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

তবু পারস্পরিক বন্ধন পরিবারের চেয়ে বেশি বলে দাবি করে তালেবান। বারাদার আহত নাকি নিহত সন্দেহ দূর করতে সোমবার জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন এমন ছবিও প্রকাশ করা হয়।

কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, তালেবান নেতাদের বিরোধ এখন রুঢ় বাস্তবতা। যদি এই অনৈক্য বাড়তেই থাকে তবে সেটা হবে আফগান জনগনের জন্য আরেক সমস্যা।

লেখক এবং প্রতিবেদক হিসাবে তালেবানের সঙ্গে কয়েকবছর ধরে কাজ করেছেন এমন ব্যক্তি জানিয়েছেন, নেতাদের এই বিভক্তি মূলত সামরিক রাজনৈতিক। তিনি বলেন, এটা ভাবুন যে তারা ২০ বছর যুদ্ধের পর এই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।

তালেবানদের শীর্ষ নেতাদের সাথে সম্পর্ক আছে এমন রাজনৈতিক সূত্রে আল জাজিরা জানায়, এই বিরোধ আগের সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী পক্ষের শক্তিকে থেকে হটিয়ে দিয়ে তালেবান যোদ্ধাদের আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল দখলে নেয়ার প্রভাব।

মন্ত্রীসভা গঠনের একদিন পর আব্দুল গনি বারাদারের সাথে হাক্কানি নেটওয়ার্ক নেতাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের খবরে বলা হয়, নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ জয়ের কৃতিত্ব নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। এসময় দুপক্ষের সমর্থকরাও বিরোধে জড়ান।

গত মঙ্গলবার উজবেক, তাজিকসহ বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর ১৭জনকে প্রতিমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে প্রতিনিধি রাখা হয় তালেবান বিরোধী ঘাটি বলে পরিচিত পাঞ্জশির, বাঘলান শের পুল থেকেও। তবে জায়গা পাননি শিয়া অনুসারী কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু কোনো ব্যক্তি। তবু ক্ষমতার কেন্দ্রে কান্দাহারে অবস্থিত শুরা বোর্ডকেই ভাবা হচ্ছে। যার প্রধান হিসাবে রয়েছেন হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আল জাজিরার সূত্র বলছে, নবগঠিত সরকারের আদতে কোনো ক্ষমতাই নেই। নতুন প্রশাসনে নিজেদের পদপদবী নিয়ে বেশ কয়েকজন নেতা হতাশ। বিরোধ রয়েছে দল সরকারের নীতি নির্ধারণে কট্টরপন্থা উদারতা নিয়েও। সূত্র বলছে, রাজনৈতিক পদ পদবি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একজিনিস। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে যোদ্ধারা যখন একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে তখন কোথাও কেউ নিরাপদ নয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন