বুধবার | অক্টোবর ২০, ২০২১ | ৫ কার্তিক ১৪২৮

খবর

ইলেকট্রিক মোটরযান নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনায় কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বিদ্যুচ্চালিত মোটরযান নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তৈরি করা হয়েছে -সম্পর্কিত একটি নীতিমালার খসড়া। গতকাল সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় খসড়া নীতিমালাটি পর্যালোচনায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে। নীতিমালাটি পর্যালোচনা করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে মতামত দেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে মহাসড়ক বিভাগ।

ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২১-এর খসড়া অনুযায়ী, এক বা একাধিক মোটরের সাহায্যে চালিত মোটরযান, যেগুলোর চালিকাশক্তি ওই মোটরযানে সংযুক্ত রিচার্জেবল ব্যাটারির সাহায্যে সরবরাহ করা হয় সেগুলোকেই ইলেকট্রিক মোটরযান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত বাইসাইকেল বা রিকশা ইলেকট্রিক মোটরযানের আওতাভুক্ত হবে না।

নীতিমালার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণ রোধে বিশ্বব্যাপী ইঞ্জিনবিহীন ইলেকট্রিক মোটরযান ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। ইলেকট্রিক মোটরযানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা দহনজনিত অন্য কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস/পদার্থ নিঃসরণ হয় না। কোনো শব্দদূষণও হয় না। তবে এজন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি দহন করে বিদ্যুৎ তৈরি করতে হয় তা সঞ্চালন করে ব্যাটারিতে জমা করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া উচ্চ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারলে সার্বিকভাবে ইলেকট্রিক মোটরযান হবে পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশেও ধরনের মোটরযান ব্যবহার শুরু হয়েছে। তাই এসব বাহনকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা প্রয়োজন। লক্ষ্যেই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় ইলেকট্রিক মোটরযানের পাঁচটি শ্রেণী সেগুলোর আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর। একইভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নয় বছর, বিদ্যুচ্চালিত হালকা, মধ্যম ভারী মোটরযানের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর। আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষে এসব মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন বাতিলযোগ্য। তবে মোটরযানের মূল বৈশিষ্ট্য গুণাগুণ অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি সম্পন্ন পরীক্ষায় সন্তোষজনক বিবেচিত হলে মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

নীতিমালায় ইলেকট্রিক মোটরযানের বৈশিষ্ট্য, রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, রেজিস্ট্রেশন ফি, রুট পারমিট, ভাড়াসহ বিভিন্ন আইনানুগ ব্যবস্থাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২১ সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইউছুব আলী মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে বিদ্যুচ্চালিত মোটরযানগুলোকে নিবন্ধন সেগুলোর পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণের জন্যই নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে খসড়ায় কিছু বিষয় সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন করা প্রয়োজন। এজন্য আজ (গতকাল) মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন