শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

দেশের খবর

বরিশালে অবৈধ স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহন বন্ধে মাঠে প্রশাসন

এম. মিরাজ হোসাইন, বরিশাল

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রী পরিবহনের জন্য রাখা অবৈধ স্পিডবোট ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

বরিশাল থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন নৌ-রুটে যাত্রী পরিবহন করছে অর্ধশতাধিক স্পিডবোট। এসব নৌযানের ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ রুট পারমিট না থাকার পরও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বরিশাল, ভোলাসহ প্রায় ১০টি রুটে। তবে এ বিষয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই বিআইডব্লিউটিএসহ জেলা প্রশাসনের। যদিও বিআইডব্লিউটিএ বলছে, তারা অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির ধারাবাহিকতায় গতকাল বরিশালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করেছেন।

জানা গেছে, বরিশাল নদীবন্দরসংলগ্ন স্পিডবোট ঘাট (ডিসি ঘাট) থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে প্রায় ৫০টি স্পিডবোট ছেড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিএর কোনো রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও এসব বোট বরিশাল-ভোলা, হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ, পাতারহাটসহ অভ্যন্তরীণ নদীপথের ৮-১০টি রুটে চলাচল করে। পাশাপাশি দক্ষিণের সব রুটে যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে। জরুরি প্রয়োজনের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি স্পিডবোটে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে উত্তাল নদীপথ। চলাচল করা এসব বোটে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখা হয় না। বরিশাল-ভোলা রুটে নিয়মিত ভাড়া ২৫০ টাকা হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩০০-৩৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন না স্পিডবোট চালকরা। বিভিন্ন স্থানে নৌদুর্ঘটনা ঘটলেও এখানকার স্পিডবোট চালক ও মালিকরা তার পরোয়া না করে পরিবহন করছেন অতিরিক্ত যাত্রী। আদায় করছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। যাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট চাইলে স্পিডবোট চালকরা বলেন, নদীতে তুফান নেই। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি কোনো তদারকি না থাকায় স্পিডবোট চালক ও মালিকরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো রুটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

বরিশাল স্পিডবোট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এ সমিতির আওতায় ২৬টি ও ভোলা স্পিডবোট সমিতির আওতায় ২৬টি স্পিডবোট চলাচল করে। বরিশালে ২৬টির মধ্যে ২০টি রয়েছে অবৈধ স্পিডবোট। কীভাবে এসব অবৈধ স্পিডবোট চলেএমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির নেতারা জানান, বিষয়টি আপনারাও বোঝেন। সবাইকে টাকা দিতে হয়। না দিলে কেউ চলাচল করতে দেবে না।

জানা গেছে, নৌ-চলাচল বিধি-২০০১-এর বিধান মতে, কোনো অনিবন্ধিত জাহাজ বা নৌকা বিআইডব্লিউটিএ কিংবা বিআইডব্লিউটিসির অবতরণ স্টেশন অথবা ঘাট থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। কিন্তু বরিশাল-ভোলা-লাহারহাট বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির নৌ-টার্মিনালের (লঞ্চ অবতরণ স্টেশন) এক কিলোমিটারের মধ্যে আইন উপেক্ষা করে অনিবন্ধিত ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করছে। এ দুটি সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী। প্রশাসন ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বখরা বা মাসোহারা দিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর ডিসি ঘাট, চরকাউয়া খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

অভিযান পরিচালনাকালে পাঁচ অবৈধ স্পিডবোট চালককে আটক করা হয়। এছাড়া সার্ভে এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ ড্রেজার, বালিবাহী বাল্কহেন্ড, যাত্রীবাহী নৌযানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লাইসেন্স, সনদ ও জীবনরক্ষা সামগ্রী না থাকার দায়ে তাদের ১০ হাজার করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুল হাসান লিটন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর বরিশালের চিফ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুর রহমান জানান, নৌ-নিরাপত্তা ও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধ করার জন্য সঠিক পথে সঠিক নৌযান চলাচলের জন্য এ অভিযান। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুল হাসান লিটন বলেন, আমরা এখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। এখানে আমরা পাঁচটি অবৈধ স্পিডবোট আটক করেছি। এছাড়া ড্রেজার, বালিবাহী বাল্কহেড ও যাত্রীবাহী নৌযানে অভিযান পরিচালনা করছি। 

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধ স্পিডবোট চলাচল বিআইডব্লিউটিএ কোনোভাবেই সমর্থন করে না। বৈধভাবে একটি নৌযানের যাত্রী পরিবহন করতে হলে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সার্ভে সনদ ও রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট নিয়ে চলাচল করতে হবে। তাই অবৈধ নৌযান বন্ধের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বরিশালে অভিযান পরিচালনা করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন