শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

শিল্প বাণিজ্য

ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতি প্রণয়নের অনুরোধ বিজিএমইএর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রতিযোগী অধিকাংশ দেশে ব্যবসা থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের জন্যচ্যাপ্টার ১১’-এর আদলে নীতি বিদ্যমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো নীতি প্রণয়ন করা হয়নি। এ অবস্থায় যেসব উদ্যোক্তা নিরাপদে ব্যবসা বন্ধ করতে চান, তাদের জন্য চ্যাপ্টার ১১-এর মতো ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে এক বৈঠকে গতকাল এ অনুরোধ জানান সংগঠনটির নেতারা।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নানের (কচি) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পোশাক শিল্পে কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠা এবং শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।  

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, দেশে কভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পোশাক শিল্পের কঠিন সময় দীর্ঘায়িত হয়েছে। এ শিল্প এখনো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ইউরোপসহ বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজারগুলো এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। যদিও তারা আশা করেছিলেন, মহামারী পরিস্থিতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ হবে। কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ও সংক্রমণ শিল্পকে আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।

এ অবস্থায় তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধের কিস্তির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। ১৮টি কিস্তির পরিবর্তে ৩৬টি করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অর্থ সচিবকে অনুরোধ জানান তারা। এছাড়া রুগ্ণ-বন্ধ ১৩৩টি তৈরি পোশাক কারখানাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে মূল ঋণ ও আয় খাতে নিট সুদ অবসায়নের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন বিজিএমইএ নেতারা।

অর্থ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, কোনো গ্রুপ অব কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে অন্যান্য প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের ঋণপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসা পরিচালনা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাংকঋণ সুবিধার অভাবে নিয়মিত ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যায়ক্রমে ঋণখেলাপি হতে বাধ্য হয়। তাদের ব্যাংকঋণ পরিশোধ করার কোনো সুযোগ থাকে না।

এজন্য বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল সরকারকে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপির কারণে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চলমান ঋণ ও ব্যাংক সুবিধা বন্ধ না করার অনুরোধ জানান। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দিয়ে ঋণ সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার  অনুরোধ করেন।

সভায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এমপি, সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহসভাপতি (অর্থ) খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও পরিচালক এম. এহসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন