শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

শেয়ারবাজার

অদাবীকৃত লভ্যাংশের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিকে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। আইনের মধ্যে থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। তবে অদাবীকৃত লভ্যাংশের অর্থ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তরের বিষয়ে দুই সংস্থার মধ্যে যৌথভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

অদাবীকৃত লভ্যাংশের অর্থ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় গত সোমবার আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রকদের সমন্বয় সভায়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে, ব্যাংক হিসাবে থাকা নগদ আমানতের অর্থ যদি ১০ বছর পর্যন্ত অদাবীকৃত থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠিয়ে দেবে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকে এ অর্থ পাঠানোর পর দুই বছরের মধ্যে যদি কোনো দাবি উত্থাপিত না হয় তাহলে এ অর্থের ওপর কারো দাবি থাকবে না এবং সেটি সরকারের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অর্থ তখন সরকারের কাছে ন্যস্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইনের এ বিধানের উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানায়, বিএসইসির গঠন করা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অদাবীকৃত নগদ লভ্যাংশের অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অদাবীকৃত এ নগদ লভ্যাংশের অর্থ ব্যাংক হিসাবে নগদ আমানত হিসেবে জমা থাকে। ফলে ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে এ অর্থ সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীর অনুমোদন ছাড়া অন্য কোথাও স্থানান্তরের সুযোগ নেই।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি মানতে নারাজ বিএসইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আমানতকারীর অর্থ ও বিনিয়োগকারীদের অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে আমানতকারীর অর্থের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বিনিয়োগকারীর বিষয়ে কোনো কিছু বলা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এখানে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। আমরা শুধু তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকারীদের অদাবীকৃত বা অবণ্টিত লভ্যাংশের অর্থ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তর করতে চাইছি। বিনিয়োগকারীর অর্থ বাংলাদেশের কোনো আইনে বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ নেই। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্দিষ্ট সময় পর আমানতকারীদের অর্থ বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।

পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতবিরোধ নতুন কিছু নয়। এর আগেও পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা, বিনিয়োগ গণনার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যকে হিসাবে নেয়া, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে নজরদারির মতো বিষয়গুলোতে আর্থিক খাতের এ দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে।

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, এ মতপার্থক্য যেটা দেখা যাচ্ছে এটি আপাত। এটি মৌলিক কোনো মতপার্থক্য নয়। তাই আমি এটিকে গুরুত্ব দিতে চাই না।

অবশ্য কোনো বিরোধ নয়, কিছু বিষয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতের অমিল হচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারকে প্রাণোদ্দীপ্ত রেখে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে চাইছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব কিছু ক্ষমতা, দায়দায়িত্ব ও স্বায়ত্তশাসন আছে। প্রত্যেকে ক্ষমতাচর্চার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হিসেবে আমি বলতে পারি, বিএসইসির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বিরোধ নেই। তবে বিএসইসির কিছুু সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানও হচ্ছে। সম্প্রতি যেসব বিষয়ে উভয় সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে স্টেকহোল্ডাররাও দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে সমন্বয়ের বিষয়ে জোর দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যেই কার্যকর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন