রবিবার | অক্টোবর ২৪, ২০২১ | ৯ কার্তিক ১৪২৮

পণ্যবাজার

ব্রাজিলের কফি রফতানিতে মন্দা ভাব

বণিক বার্তা ডেস্ক

ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদক দেশ। কিন্তু চলতি বছর দেশটির কফি উৎপাদন খাত প্রতিকূল আবহাওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে পানীয় পণ্যটির রফতানি খাতেও। খবর নাসডাক।

চলতি বছরের আগস্টে ব্রাজিলের কফি রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি রফতানি করে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি কনটেইনার সংকট এবং কার্গোতে জায়গা খুঁজে পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন রফতানিকারকরা। এসব বিষয় রফতানি হ্রাসে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। ব্রাজিলের এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সিক্যাফে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে সিক্যাফে জানায়, জাহাজীকরণজনিত জটিলতার কারণে চলতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ ব্যাগ কফি জাহাজীকরণ ব্যাহত হয়েছে। ফলে ব্রাজিলের কফি রফতানি শিল্পে প্রায় ৫০ কোটি ডলার লোকসান হয়েছে। আগস্টে ব্রাজিলের রফতানিকারকরা যে পরিমাণ কফি রফতানি করেছেন তা এক বছরের সর্বনিম্ন।

সিক্যাফের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস রয়ডা বলেন, তীব্র সংকটের কারণে বড় পরিসরে বেড়েছে জাহাজীকরণ ব্যয়। ফলে বুকিং বাতিল করার ঘটনা ঘটছে। নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কনটেইনার ও কার্গোতে জায়গা সংকট জটিলতা তৈরি করছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, পরিস্থিতি বিরূপ হতে থাকায় বেশির ভাগ কফিবাহী কার্গোর বন্দর ছেড়ে যাওয়া স্থগিত করা হয়েছে। আগস্টে ৪০-৫০ শতাংশ কার্গো চলাচল স্থগিত করা হয়। বছরের প্রথম মাসে স্থগিতকরণের হার ছিল ১০-২০ শতাংশ।

বৈশ্বিক কফি বাণিজ্যে ব্রাজিলের ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। কফি রফতানি বাজারে দেশটির সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলে জাহাজীকরণ বিলম্ব দেশটির কফি রোস্টারদের বিপাকে ফেলতে পারে।

এদিকে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে কফির বৈশ্বিক সরবরাহ ধারা ভেঙে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। আগামী বছর কফির বৈশ্বিক ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন (আইসিও)

সংস্থাটির একটি সূত্র জানায়, ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুমে কফি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। ফলে ওইসব দেশে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এটি বৈশ্বিক উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। আগামী মৌসুমে কফির বৈশ্বিক ব্যবহারের তুলনায় সরবরাহ অত্যধিক মাত্রায় হ্রাসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন