সোমবার | মে ২৩, ২০২২ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ 

শেয়ারবাজার

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে অর্থ স্থানান্তর

আরো এক মাস সময় পেয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

বছরের জুলাইয়ের মধ্যে অদাবীকৃত বা অবণ্টিত কিংবা অনিষ্পত্তিকৃত নগদ লভ্যাংশ কিংবা বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেয়া হয়নি এমন সাবস্ক্রিপশনের অর্থ কিংবা ধরনের অন্যান্য অর্থ পুঞ্জীভূত সুদসমেত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) পক্ষ থেকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য তিন মাসের সময় চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অর্থ স্থানান্তরে আরো এক মাস সময় বাড়িয়েছে। ফলে মাসের মধ্যেই কোম্পানিগুলোকে অর্থ স্থানান্তর করতে হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি অদাবীকৃত কিংবা অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশের বিষয়ে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে। এক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ গ্রহণ করার জন্য উপযুক্ত প্রমাণসহ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করা না হলে বছরের ২৯ আগস্টের মধ্যে এই অর্থ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। অবশ্য তহবিলে স্থানান্তর করা হলেও বিনিয়োগকারীরা উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে যেকোনো সময় এই অর্থ দাবি করতে পারবেন।

এর আগে বছরের জুলাই বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তরের জন্য তিন মাস সময় চেয়েছিল বিএপিএলসি। এক্ষেত্রে সংগঠনটি দুটি কারণ উল্লেখ করেছিল। প্রথমটি হচ্ছে ধরনের টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার/সিকিউরিটিহোল্ডার অথবা তাদের নমিনিকে ৩০ দিনের আগাম নোটিস দিতে হবে। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আইপিওর সাবস্ক্রিপশনের টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে বহু বছরের পুরনো নথিপত্র খুঁজে দেখতে হবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রায় সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির অফিস বন্ধ বেশির ভাগ অফিস সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সীমিত পরিসরে চলছে। তাই এসব কার্যক্রম ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করা অসম্ভব বলে জানিয়েছিল তারা। এজন্যই বাড়তি তিন মাস সময় চেয়েছিল সংগঠনটি।

গত জুলাই বিএসইসি সব তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের কাছে থাকা অদাবীকৃত বা অবণ্টিত বা অনিষ্পত্তিকৃত নগদ লভ্যাংশ কিংবা বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেয়া হয়নি এমন সাবস্ক্রিপশনের অর্থ কিংবা ধরনের অন্যান্য অর্থ পুঞ্জীভূত সুদসমেত ইত্যাদি পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। বিএসইসির উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত -সংক্রান্ত এক চিঠিতে বছরের ১৪ জানুয়ারি জারি করা কমিশনের নির্দেশনা এবং পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল বিধিমালার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অদাবীকৃত বা অবণ্টিত বা অনিষ্পত্তিকৃত নগদ লভ্যাংশ কিংবা বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেয়া হয়নি এমন সাবস্ক্রিপশনের অর্থ কিংবা ধরনের অন্যান্য অর্থ পুঞ্জীভূত সুদসমেত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে লভ্যাংশ ঘোষণা বা অনুমোদন বা রেকর্ড ডেটের পর তিন বছর ধরে অবণ্টিত বা অদাবীকৃত বা অনিষ্পন্ন থাকলে তা বিএসইসির তহবিলে জমা দিতে হবে। লভ্যাংশের অর্থ জমা দেয়ার জন্য পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের নামে কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়েছে। লভ্যাংশের অর্থ জমা দেয়াসহ অন্য আনুষঙ্গিক তথ্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ কমিশন স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) কাছে জমা দিতে হবে।

এর আগে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ ব্যবহারে গঠিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল ব্যবস্থাপনায় বোর্ড অব গভর্নরস গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে কমিশন। বিএসইসির ৭৮১তম কমিশন সভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

প্রসঙ্গত, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশকে একটি স্বতন্ত্র তহবিলের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় কাজে লাগাতে একটি বিধিমালা তৈরি করেছে বিএসইসি। অবণ্টিত থাকা ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি নগদ স্টক লভ্যাংশ তহবিলের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন