বুধবার | অক্টোবর ২০, ২০২১ | ৫ কার্তিক ১৪২৮

শেষ পাতা

কাল থেকে খুলছে রফতানিমুখী শিল্প-কলকারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে আগামীকাল থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রফতানিমুখী শিল্প খুলে দেয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।

সিদ্ধান্তের ফলে রোববার সকাল থেকেই খুলছে রফতানিমুখী সব শিল্প-কারখানা। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এতদিন শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে অনড় ছিল সরকার। তবে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের উচ্চ মহলে বারবার অনুরোধ করছিলেন শিল্পমালিকরা।

গত বৃহস্পতিবারও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবারও অনুরোধ জানান। এদিন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ঢাকা চেম্বারের নেতারা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে অনুরোধ জানান। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তারা অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চলতি বছরের এপ্রিলে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও রফতানিমুখী পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানা উৎপাদন চালানোর সুযোগ পায়। সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত পরে থেকে ১৪ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধেও পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানা চালু ছিল। তবে ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের কঠোরতম বিধিনিষেধে সব ধরনের শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকবে সেই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে নামেন পোশাক বস্ত্র খাতের পাঁচ সংগঠনের নেতারা। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দেন তারা।

কারখানা খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের পর বৈঠকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এখন কারখানা খুলে দেয়া জরুরি ছিল। কারণ আমরা যেসব দেশে পণ্য রফতানি করি, সেসব দেশ বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই এখন সেসব দেশ থেকে ক্রয় আদেশ বাড়ছে। তাই তারা আগে যেসব ক্রয়াদেশ দিয়েছে বা এখন দিচ্ছে, সে অনুযায়ী সেবা পণ্য পাঠানো দরকার। সময়মতো পণ্য ডেলিভারি না পেলে তারা অন্য দেশে চলে যাবে।

তিনি আরো বলেন, রোববার থেকে রফতানিমুখী কারখানা খুলে দেয়া হলো, আশা করি খুব শিগগির অন্যান্য স্থানীয় কারখানাও খুলে দেয়া হবে। কারণ রফতানিমুখী কারখানার সঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড হিসেবে অনেক স্থানীয় কারখানাও জড়িত। তাছাড়া কারখানা খুলে দেয়া না হলে শ্রমিকরা বেকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। করোনা তো এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে না, তাই আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কারখানা খুলে দেয়াই ভালো। তা না হলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগামীতে পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বাড়বে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। তাই আমাদের দাবি ছিল খুব শিগগির সব ধরনের কলকারখানা খুলে দেয়ার।

বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ, তাহলে গ্রামের বাড়ি থেকে শ্রমিকরা কারখানায় আসবে কীভাবেএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় কারখানার আশপাশের শ্রমিক দিয়েই কারখানা চালু করতে হবে। তবে আমি মনে করি সরকার যেহেতু কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু শ্রমিকদের কারখানায় ফেরার ব্যবস্থাও সরকার করবে।

প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, এর আগেও লকডাউনের মাঝে গণপরিবহন বন্ধ ছিল কিন্তু কারখানা চালু ছিল, এখনো সেভাবে চলবে। অধিকাংশ কারখানার শ্রমিক কারখানার আশপাশে অবস্থান করছেন। আপাতত তাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া হবে। আগস্ট যেদিন কারখানা খুলবে, সেদিন যেসব শ্রমিক কারখানার আশপাশে রয়েছেন কিংবা যারা আসতে পারবেন তারাই কাজ করবেন। কেউ যদি আসতে না পারেন তারা গণপরিবহন চালু হলে আসবেন। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। কয়েকদিনের জন্য কারো চাকরি যাবে না, বেতনও কাটা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, রফতানির পাশাপাশি আমাদের স্থানীয়ভাবে অনেক কাজ রয়েছে। বন্দরে অনেক আমদানি করা পণ্য এসে রয়েছে। জাহাজগুলো আনলোড করে পণ্যগুলো বন্দরে রাখার জায়গা থাকছে না। বন্দর থেকে তিন-চারদিন পণ্য ছাড় না করা হলে জট বেঁধে যায়। সে কারণে ফ্যাক্টরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো না খুলে বন্দর থেকে কনটেইনারে পণ্য রিলিজ না করলে সবকিছুতে জটিলতা দেখা দেয়। তাই পুরো দেশটাকেই চালু রাখতে কারখানা খুলে না দেয়ার বিকল্প ছিল না।

ঈদের আগে ১৮ ১৯ জুলাই ৩০ হাজারের মতো কর্মীকে টিকা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনার জন্য দায়িত্ব নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। শ্রমিকরা যেন কোনোভাবেই অসুস্থ না হয়, সেজন্য আমাদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে কাজ করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন