শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ | ৮ আশ্বিন ১৪২৮

খবর

বিআইজিডির গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ

দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ছিল কম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসন ব্যবস্থা ঠিক কতখানি চাপ নিতে পারে করোনা মহামারী এসে সেই পরীক্ষাটিই নিচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর অবস্থা আগে থেকেই নড়বড়ে। ফলে এসব দেশে করোনা উদ্ভূত জীবন বনাম জীবিকা টানাপড়েন গোড়া থেকেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশে প্রয়োজন প্রতি-ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থা।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অ্যাকাউন্টিং রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের করোনাকালীন শাসন ব্যবস্থা নিয়ে একটি গবেষণা করেছে, যার ফলাফল ২৯ জুলাই একটি ওয়েবিনারে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে করোনা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত শাসন ব্যবস্থা, এর দুর্বলতা এবং ধরনের দুর্যোগ কিংবা মহামারী পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কীভাবে আরো কার্যকর হওয়া যায়, এসব বিষয়ে গবেষকরা তাদের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। গবেষকরা একটি প্রতি-ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার ধারণার কথা বলেছেন। এটি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা দুর্যোগ মোকাবেলা করতে করতে ক্রমে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সব ধরনের সম্ভাব্য সমাধান বিবেচনায় এনে এর সঙ্গে সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটিয়ে, দুর্যোগ মোকাবেলার পথ বের করে এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শাসন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে তোলা যায় বলে গবেষকরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। তবে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ঘনঘন করোনার মতো ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগে পড়তে পারে। তখন শুধু দুর্যোগ সামলানোর ক্ষমতাই যথেষ্ট হবে না। তাতে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে। বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে গেলে এমন একটি শাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা দুঃসময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরো কার্যকর হয়ে উঠতে পারে, অন্যভাবে বলতে গেলে আমাদের একটি প্রতি-ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে মহামারীকালীন নীতিনির্ধারণ এবং এর প্রয়োগ, স্বাস্থ্য সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ওপর নীতির প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের করোনা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের অভিমতের ওপর জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চালানো হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও সরকারের লকডাউন ব্যবস্থাপনা, করোনা পরীক্ষা এবং ত্রাণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে জরিপে।

গবেষকরা বলেন, লকডাউন অর্থনীতি মানুষের জীবনে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনুধাবন করেই ২০২০ সালে লকডাউন প্রয়োগে সরকার দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। ধারণার চেয়ে আক্রান্তের হার কম হওয়ায় গত বছর ঢিলেঢালা লকডাউনের কৌশল উতরে গিয়েছিল। কিন্তু তার পরও আর্থিকভাবে দুর্বল, স্বল্প-সঞ্চয়ী মানুষ এবং অসময়ে সাহায্য করার মতো যাদের কেউ নেই, তাদের জীবন জীবিকা লকডাউন আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে।

বলা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সরকারের একটি সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল। প্রবৃদ্ধি সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টা ঘোষিত প্রণোদনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বৃহৎ, মাঝারি রফতানিমুখী শিল্পের জন্য জিডিপির শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। সেই তুলনায় আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠী, তাদের খাদ্য কর্মনিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ ছিল শতাংশেরও কম। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক তাদের সংগঠনগুলো তাদের প্রভাব খাটিয়ে প্রণোদনার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরব ছিল। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়ন, তৃণমূল জনগণ তাদের সংগঠনগুলো সেভাবে সরব হতে পারেনি। ব্যাপারটিও প্রণোদনা নীতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন