শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ | ৯ আশ্বিন ১৪২৮

দেশের খবর

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

অর্থ লোপাট প্রমাণিত হলেও বহাল সহকারী প্রকৌশলী

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রাজশাহী

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৪৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলছে সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-- আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় জোনপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হাসনুল ইসলাম।

প্রমাণ লোপাটে বিএমডিএ অফিসে লাগানো হয় আগুনও। পরে দফায় দফায় তদন্তে বেরিয়ে আসে আত্মসাৎ কাণ্ডের পেছনে সহকারী কোষাধ্যক্ষ খবিরুদ্দিন সহকারী প্রকৌশলী হাসনুল ইসলামের সম্পৃক্ততা।

ঘটনায় খবিরুদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হলেও হাসনুল ইসলামের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি বিএমডিএ। এখনো তিনি ওই পদে নওগাঁর রানীনগর জোনপ্রধান হিসেবে কর্মরত। অপরাধ করে শাস্তি না পাওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সহকারী প্রকৌশলী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন--এর প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় ১৬৯টি চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ৩৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর মধ্যে ভ্যাটের চেক টেম্পারিং করা হয়েছে ১২৬টি। এতে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৩০ লাখ হাজার ৫৮৩ টাকা। এছাড়া অপারেটরের ২৭টি চেকে লাখ ৯০ হাজার ৬৭৫, কৃষকের নষ্ট কার্ডের ১৩টি চেকে লাখ ৮১ হাজার ৯৮০ এবং বকেয়া বেতনের তিনটি চেক টেম্পারিং করে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।

এছাড়া ভ্যাট আয়করের অর্থ, খাওয়ার পানির আদায়কৃত বিল, প্রাপ্তি হিসাব অর্থ, মানি রশিদের মাধ্যমে আদায় এমনকি জরিমানাসহ অন্যান্য খাতের মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৯ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মজুরি খাতে দুজন দক্ষ শ্রমিকের নিয়োগ দেখিয়ে ৫২ হাজার ৬০ টাকা লোপাট করা হয়েছে।

ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রথমে বিএমডিএ দুই দফা তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তদন্তে উঠে এসেছে সহকারী কোষাধ্যক্ষ খবিরুদ্দিনের যোগসাজশে কাণ্ড ঘটিয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী হাসনুল ইসলাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে এসব কমিটি।

ঘটনায় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অভিযুক্ত খবিরুদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু আরেক অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে। তার ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বিএমডিএ। তবে বিরতি ভেঙে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলামের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন বিএমডিএর তত্কালীন নির্বাহী পরিচালক শ্যাম কিশোর রায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী হাসনুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ সেটি সঠিক নয়। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তার কাছে যে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল, তিনি সেটির জবাব দিয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার তিনি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন। কোনো কমিটি তার অপরাধ সংশ্লিষ্টতা পায়নি বলেও দাবি করেন সহকারী প্রকৌশলী।

তবে অভিযোগ থেকে সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম পার পাননি বলে জানিয়েছেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন