শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

খবর

৫ বছরের মধ্যে দুধ উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হবে দেশ —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন মাংস ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দুধ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে দেশ। পোলট্রি ডেইরি খাতের ব্যাপক সাফল্যের কারণে প্রাণিজাত খাদ্যের বহুমুখীকরণ রফতানিতে বাংলাদেশ সরকার জোর দিচ্ছে। সার্ক অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন বিকাশে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

গতকাল সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত সার্ক অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ প্রাণিজাত পণ্যের আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গাইডলাইন পলিসি সমন্বয়সংক্রান্ত আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের এক ভার্চুয়াল পরামর্শক সভার উদ্বোধন পর্বে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর কক্ষ থেকে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আঞ্চলিক খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি জীবনযাত্রা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সুস্বাস্থ্য কল্যাণের জন্য সার্ক অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ প্রাণিজাত পণ্যের আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গাইডলাইন পলিসি সমন্বয় অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে সময় মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সার্কভুক্ত অনেক দেশ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই নয় বরং উদ্বৃত্ত। সে দেশগুলো রফতানির মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৩টি খাতে বিশ্বের সেরা ১০টি স্থান অর্জন করেছে। যার মধ্যে বিশ্বে ইলিশ আহরণে প্রথম, ধান উৎপাদনে তৃতীয়, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ স্থান অর্জন উল্লেখযোগ্য।

মন্ত্রী বলেন, খাদ্য পুষ্টিনিরাপত্তা অর্জন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মেধাবি জাতি গঠনে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাণিসম্পদ থেকে উৎপাদিত দুধ, ডিম, মাংস অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্য অপুষ্টি দূর করে। সরকারের নানা পদক্ষেপ তথা কৃত্রিম প্রজনন, পোলট্রি ডেইরি খাতে গবেষণা বৃদ্ধি, শিক্ষিত উদ্যোক্তা তৈরি, সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার কারণে গত ১২ বছরে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন হয়েছে। গুণগত মানসম্পন্ন নিরাপদ প্রাণিজাত পণ্য উৎপাদন এক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ উত্তরণে আন্তর্জাতিকমানের প্রাণিসম্পদ উৎপাদন উপকরণ প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার খাতের উদ্যোক্তাদের কর অব্যাহতিসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ খাত স্বাস্থ্যকর দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে অবদান রেখেছে এবং অবদান রাখছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিচ্ছে। দেশগুলোতে লাখ লাখ ক্ষুদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কভিড-১৯ থেকে মুক্তি লাভ, ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, খাদ্যের সঙ্গে জড়িত অসংক্রামক ব্যাধি তথা হূদরোগ, ডায়াবেটিস ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করার বিষয়গুলো আঞ্চলিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করছে। এজন্য টেকসই খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সার্ক অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন